সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৮ মার্চ: রাজ্যে ক্ষমতায় আসছে বিজেপি। এই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পশ্চিম বঙ্গের তোলাবাজ, মাফিয়া, অপরাধীদের জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিলেন নরেন্দ্র মোদী। আজ পুরুলিয়ার ভাঙড়ার নবকুঞ্জ মাঠে দলের প্রার্থীদের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এসে সব তোলাবাজ, মাফিয়া, অপরাধীদের জেলে পাঠাবে৷ এ বার তৃণমূলের পরাজয় নিশ্চিত৷ এ বার বাংলায় সিন্ডিকেট, কাটমানি, তোলাবাজদের পরাজয় হবেই৷” “দিদি বলে খেলা হবে, বিজেপি বলে বিকাশ হবে৷’ এই ভাষাতেই তৃণমূলের ‘খেলা হবে’ স্লোগানকে তীব্র বিদ্রুপ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ তাঁর কটাক্ষ, “১০ বছর ধরে অনেক খেলা খেলেছেন, এ বার সেই খেলা শেষ হবে আর বিকাশ শুরু হবে৷” এ দিন তাঁর স্লোগান ছিল, “চুরির খেলা চলবে না”৷
কয়েকদিনে এখন রাজ্যজুড়ে পরিচিত স্লোগান “খেলা হবে”৷ বাংলাদেশ এর উৎস হলেও রাজ্যের নেতাদের মুখে বারবার শোনা যাচ্ছে এই স্লোগান৷ ইদানিং তো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রতিটি জনসভায় এই স্লোগান তুলছেন৷ খেলা হবে স্লোগানকে এ দিন নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ তিনি ভাঙা ভাঙা বাংলায় বলেন, “দিদি বলে খেলা হবে, বিজেপি বলে চাকরি হবে৷ দিদি বলে খেলা হবে, বিজেপি বলে বিকাশ হবে৷ দিদি বলে খেলা হবে, বিজেপি বলে শিক্ষা হবে৷ মহিলাদের উত্থান হবে৷ যুবশক্তির বিকাশ হবে৷ প্রত্যেক ঘরে কল হবে, পরিষ্কার জল হবে৷ হাসপাতাল হবে৷ খেলা ১০ বছর খেলেছেন৷ এ বার খেলা শেষ হবে, বিকাশ শুরু হবে।

বাংলার মানুষের থেকে দিদির খেলার চিন্তাই বেশি বলে তোপ দাগেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ তাঁর কথায়, “বাংলার জনতাই এ বার আপনার বিরোধীতার জন্য দাঁড়িয়ে৷ তাঁরাই আপনাকে শাস্তি দেবে৷ চুরির খেলা আর চলবে না৷ দিদিও এখন হারের জন্য ভয় পাচ্ছে৷ দিদি আপনি এ সব করুন৷ সবরকমভাবে খেলুন৷ আমরা বিকাশ করি৷”
তৃণমূলের সরকার দলিত, পিছিয়ে পড়া ও আদিবাসীদের জন্য কোনও কাজ করেনি বলে তোপ দাগেন মোদী৷ তাঁর দাবি, বিজেপির সরকার এ রাজ্যে পিছিয়ে পড়া মানুষদের সমস্যার উপর সবচেয়ে বেশি জোর দেবে৷ এ দিন প্রধানমন্ত্রীর কথায় অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস ধরা পড়ে৷ তাঁর ভাষণে একবারও শোনা যায়নি যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে এটা করবে৷ তাঁর প্রতিটা কথায় মনে হয়েছে যেন বিজেপি নিশ্চিত, তাঁরাই ২ মে’র পর ক্ষমতায় আসছেন৷ ডবল ইঞ্জিনের সরকার রাজ্যে আইনের শাসন গড়ে তুলবে বলে দাবি প্রধানমন্ত্রীর৷

আজ বক্তৃতার মধ্যে প্রধান মন্ত্রী মোদী তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের আঘাত নিয়ে ঈশ্বরের কাছে সুস্থতার কামনা করেন। রাজনৈতিক ভাবে অবশ্য মোদির এই সৌজন্যতাকে প্রশংসার চোখে দেখছেন সমাবেশে উপস্থিত মানুষ জন। জোটের শরিক আজসুর প্রার্থী সহ পুরুলিয়া জেলার ৯ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীকে নিয়ে জনসমক্ষে মঞ্চের উপর শুভেচ্ছা ও নমস্কার জানান জনপ্রিয় মোদী। সভায় বক্তব্য না রাখলেও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিজেপির সহ সভাপতি মুকুল রায়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, রাজ্য নেতৃত্ব সাংসদ ও জেলা নেতৃত্বরা।

