Devdutta Majhi, BJP, আইপ্যাক কান্ডে মানুষের স্বার্থ রক্ষায় মুখ্যমন্ত্রীকে আটকাতে যা যা করার সেটাই করা উচিত ছিল, বললেন বিজেপি নেতা দেবদত্ত মাজি

আমাদের ভারত, ১২ জানুয়ারি: প্রতীক জৈন ও আইপ্যাকের দপ্তরে ইডির তল্লাশিতে বাধা দিয়ে তথ্য ফাইল লুট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাকে এই কাজে আরো একটু ভালো ভাবে বাধা দেওয়া যেত বলেই মনে করছেন বিজেপি তথা সিংহবাহিনীর নেতা দেবদত্ত মাজি।

আইপ্যাক কান্ড প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে দেবদত্ত মাজি বলেছেন, সেদিন ইডির অফিসে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হানা দিয়েছে তা নয়, বরং ইডি এক জায়গায় তল্লাশি করতে গেছে সেখানে কাজ করতে ইডিকে বাধা দেওয়া হয়েছে। শুধু বাধা দেওয়াই নয়, তথ্য লুটপাট করে দিনের আলোতে ক্যামেরার সামনে নিয়ে চলে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং আইপ্যাকের অফিস দুটো জায়গাতেই একই কাজ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ মানুষ এটাকে কিভাবে দেখেছে? দ্বিতীয়ত, ইডি তল্লাশি করতে গেছে একটি বিশাল বড় স্ক্যামের। ইডির সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বেশ কয়েকজন আধিকারিক ছিলেন এবং ফোর্সও ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তারা কে কতটা বাধা দিয়েছে? দেবদত্ত মাজির কথায়, মুখ্যমন্ত্রীকে সেদিন এই বাধা দেওয়ার কাজটা আরো ভালোভাবে করা যেত।

এরপরেই যুক্তি দিয়ে দেবদত্ত মাজি বলেছেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন, কিন্তু দেশের নিরাপত্তা ও দেশের আইনের ঊর্ধ্বে তিনি নন। মুখ্যমন্ত্রীকে আটকাবার জন্য যেটা করার দরকার ছিল সেটাই করা উচিত ছিল। সেটাই করতে হতো। এটা ভাবলে চলবে না সে একজন মুখ্যমন্ত্রী কিংবা মহিলা।

তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যে ফাইল, ল্যাপটপ, হার্ড ডিস্ক, ফোন লুট করে নিয়ে গেছেন এতে অনেক তথ্য আছে। কী কী তথ্য আছে তা আমাদের ভাবনাচিন্তার বাইরেও হতে পারে। হতে পারে তৃণমূলের একাধিক নেতার বিদেশি ব্যাঙ্কে যে অ্যাকাউন্ট আছে তার তথ্য আছে। ২০২২- এ ফেব্রুয়ারির একটি ফাইল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন বলে দেখা গেছে। ২০২২- এ কোনো নির্বাচন বা ক্যান্ডিডেট লিস্ট ছিল না। তাহলে ফাইলটা কিসের? সেই রকম প্রশ্ন উঠছে। এরপরেই তিনি জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়েছেন, সাধারণ মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কী চায়? দিনের আলোয় মুখ্যমন্ত্রী তাদের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা, মন্ত্রী, আমলা, নিজের ভাইপো, নিজেকে বাঁচাবার জন্য যে লুট চালালো। তারপরে দিল্লি এবং কলকাতার রাজপথে পদযাত্রা করলেন নির্লজ্জের মত। একটা নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি করে বোঝাবার চেষ্টা করলেন তাদের ওপরই আঘাত আসছে। তাঁর অভিযোগ, কলকাতা পুলিশের এই ঘটনায় যে ভূমিকা তা প্রমাণ করে দিয়েছে তারা সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ও দেশের বিরুদ্ধে কাজ করছে।

কিন্তু একই সঙ্গে তিনি এও বলেছেন, এই ঘটনার পর বাংলার মানুষ দেখতে চায় কেন্দ্র সরকার বা সুপ্রিম কোর্ট কী পদক্ষেপ করে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এতো কিছুর পরেও সুপ্রিম কোর্ট কেনো সুয়োমোটো মামলা করল না?

তাঁর দাবি, মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থার যা যা করা উচিত তা করতে হবে। বাংলাকে বাঁচাতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হোক অথবা কেন্দ্র সরকার এবং তার এজেন্সিদের আরও বেশি করে তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্থ নেতাদের চেপে ধরতে হবে।

কী ছিল ওই ফাইলে? কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মরিয়া হয়ে ছুটেছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে দেবদত্ত মাজি বলেছেন, তৃণমূলের যত দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের ও তাঁর ভাইপোর নাম সামনে আসতে পারে, অথবা তৃণমূলের গুপ্তচরদের নাম প্রকাশ্যে আসতে পারে যারা অন্য দলে রয়েছেন। তাঁর কথায়, রাজনীতি আজকের সময় একটা যুদ্ধ। আগেকার দিনে আমরা দেখতে পেতাম যুদ্ধে গুপ্তচর থাকত। তৃণমূলের যে গুপ্তচরেরা অন্য দলে লুকিয়ে আছে তাদের নামটাও বেরিয়ে আসতে পারে এই তথ্য প্রকাশ পেলে। মুখ্যমন্ত্রী তাদেরকেও বাঁচাতে ছুটে গিয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করেন
দেবদত্তবাবু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *