রাজেন রায়, কলকাতা, ২ জানুয়ারি: এরকম পরিস্থিতির মুখেও যে কোনো দিন পড়তে হতে পারে, ভাবতে পারছেন না রাজ্যের লোকাল ট্রেনের যাত্রীরা। নবান্নের বিধিনিষেধের মধ্যে অন্যতম সন্ধ্যে সাতটার পর বন্ধ হয়ে যাবে লোকাল ট্রেন। তাহলে সন্ধ্যে সাতটা বাজার পর সামান্যতম দেরি হলে রয়ে যেতে হবে স্টেশনেই? এই নিয়ে এখন আজব ধন্দ এবং আতঙ্কে যাত্রীরা।
রবিবার ছুটির দিন, ফলে ব্যস্ততম হাওড়া ও শিয়ালদা স্টেশনে এদিন ভিড় অনেকটাই কম। তবুও গুটিকয়েক যা নিত্যযাত্রী এদিন এই দুই স্টেশন থেকে ট্রেন ধরতে এসেছেন।
পূর্ব রেলের জনসংযোগ দফতর থেকে জানানো হয়েছে, দিনের অন্যান্য সময় নির্ধারিত সূচি মেনেই চলবে লোকাল ট্রেন। তবে সন্ধ্যে ৭টার পর থেকে পরদিন ভোর পাঁচটা পর্যন্ত সমস্ত লোকাল ট্রেন বাতিল করা হবে। তবে এব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি রেল কর্তারা। তাঁদের দাবি, আগামীকাল রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আরও একটি প্রশ্ন উঠছে, জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মচারি ও রেলের কর্মীরা কী করবেন? তাঁরা কীভাবে বাড়ি ফিরবেন সেটা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এক্ষেত্রে কী সন্ধ্যা ৭টার পর স্টাফ স্পেশাল ট্রেন চালানো হতে পারে। তবে তাতে কারা উঠতে পারবেন সেটা নিয়েও রয়েছে ধন্ধ। অপরদিকে মোট আসনের ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে লোকাল ট্রেন চালানোর নির্দেশিকা নিয়েও রয়েছে প্রশ্নচিহ্ন। কারণ লোকাল ট্রেনে অফিস টাইমে ভিড় নিয়ন্ত্রণ কার্যত অসম্ভব। এটা কতটা মান্যতা পাবে সেটা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অফিসযাত্রীদের চিন্তা অবশ্য আরও আছে। যেমন রাত ১০টা থেকে রাজ্যে আরও কড়া নাইট কার্ফু লাগু হবে সোমবার থেকে। স্পষ্ট বলা হয়েছে, একমাত্র জরুরি পরিষেবা বাদ দিয়ে অন্য কোনও গাড়ি, বাস, ট্যাক্সি বা অ্যাপ ক্যাব রাস্তায় নামবে না। অন্যথায় কড়া ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

