স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২৭ আগস্ট: স্ত্রীকে দিয়ে স্ত্রীর প্রেমিককে বাড়িতে ডেকে এনে চারজনে মিলে প্রেমিকের দেহ ও মুন্ডু আলাদা করে কেটে খুন করল স্বামী। এরপর দেহ ফেলে দিল নদীতে আর মুণ্ডু পুঁতে দিল মাটিতে। নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের পীরপুরের এই ঘটনায় শিউরে উঠেছেন এলাকার মানুষ।
নদিয়ার ধুবুলিয়ার বাসিন্দা প্রহ্লাদ ঘোষ তার স্ত্রী নমিতা ঘোষকে নিয়ে বেশ সুখে জীবন যাপন করছিলেন। হঠাৎ এই গ্রামের যুবক বাবুসোনা ঘোষের সঙ্গে নমিতা দেবীর মধুর সম্পর্ক তৈরি হয়। বাবুসোনা তৃণমূলের বুথ সভাপতি। তাদের এই গোপন সম্পর্কের কথা প্রহ্লাদ ঘোষ জানতে পারে। জানার পর বারবার বারণ করা সত্ত্বেও বাবুসোনা ঘোষ রাজি হননি সেই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে। শেষ পর্যন্ত স্ত্রী নমিতা ঘোষকে দিয়ে তার প্রেমিককে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পীরপুরে স্ত্রীর আত্মীয় শঙ্কর ঘোষের বাড়িতে ডেকে আনে। প্রেমের টানে নমিতা দেবীর কথায় চলে আসে বাবুসোনা। এরপর বাড়ির কাছে কলাবাগানে মদের আসর বসায়। সেখানে প্রহ্লাদ ঘোষ, প্রসেনজিৎ ঘোষ, শঙ্কর ঘোষ এবং নমিতা ঘোষ মোট চারজন মিলে গলায় দড়ির দিয়ে ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে বাবুসোনার দেহ থেকে মুন্ডুটাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে আলাদা করে এবং দেহটাকে মাথাভাঙ্গা নদীতে ফেলে দেয়। মুন্ডুটাকে বাড়ি থেকে ৫০০ মিটার দূরে একটি আম বাগানে গর্ত খুঁড়ে পুঁতে দেয়। প্রমাণ দোপাট করতে দেহ থেকে জামা কাপড় খুলে আরও ২০০ মিটার দূরে পুঁতে দেয়।

কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ তদন্তে নেমে প্রথমে প্রহ্লাদ ঘোষকে ধুবুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে এবং তার স্ত্রী নমিতা ঘোষকেও গ্রেপ্তার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর সমস্ত ঘটনা প্রকাশ্যে আসে এবং পুলিশের জেরায় বাবুসোনা তাদের অপরাধ স্বীকার করে। প্রথমে পুলিশ মুন্ডুটা উদ্ধার করে এরপর ধৃত প্রহ্লাদকে নিয়ে মাথাভাঙ্গা নদীতে যায় দেহ উদ্ধার করার জন্য। এখনো পর্যন্ত বাবুসোনার দেহ তল্লাশি শুরু করলেও দেহ উদ্ধার করতে পারেনি।

