“এটা কেমন রাজনীতি? এটা কেমন গণতন্ত্র?” মমতা অভিষেকের বিজেপি নেতাদের বাড়ি ঘেরাওয়ের ডাকের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা সুকান্তর

আমাদের ভারত, ২১ জুলাই: একুশে জুলাই- এর মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী ৫ই আগস্ট ব্লকে ব্লকে বিজেপি নেতাদের বাড়ি থেকে ১০০ মিটার দূরে প্রতিকী ঘেরাও করার কর্মসূচি নিতে বলেছেন দলের কর্মীদের। আর এই কর্মসূচির চুড়ান্ত সমালোচনা করে রাজ্যে গণতন্ত্র আদৌ আছে কিনা বলে প্রশ্ন তুলে সরব হলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। অন্যান্য বিরোধীদের কাছে সুকান্ত প্রশ্ন রাখলেন এটা কেমন রাজনীতি? একই সঙ্গে মণিপুরের ঘটনার বাংলায় পুনরাবৃত্তি হয়েছে বলে দাবি করে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও সরব হয়েছেন বিজেপি নেতা।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ৫ আগস্ট শনিবার বিজেপির ব্লক, বুথ, রাজ্যের সব নেতাদের বাড়ি ঘেরাও করা হবে। সেদিন শান্তিপূর্ণভাবে সব জায়গায় বিজেপি নেতাদের বাড়ি ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। সকাল দশটা থেকে সন্ধে ছ’টা পর্যন্ত আট ঘন্টা ঘেরাও করার ডাক দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে বয়স্কদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। আর বলেছিলেন বিজেপি নেতারা না বাড়িতে ঢুকবে না বেরোবে। কোথাও কারো গায়ে হাত নয়, প্ররোচনায় পা নয়। কিন্তু সেই কর্মসূচিতেই বদল আনেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, ৫ আগস্ট বুথ না করে ব্লক করো। ১০০ মিটার দূরে যেমন ক্যাম্প হয় তেমন করে বসো। যাতে কেউ বলতে পারবে না আমাদের, অবরুদ্ধ করা হয়েছে অর্থাৎ ব্লকে ব্লকে বিজেপি নেতাদের বাড়ি থেকে ১০০ মিটার দূরে প্রতিকী ঘেরাও করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ নিয়ে তাকে তোপ দাগলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে সুকান্ত বলেন,” এটা কেমন রাজনীতি? এটা কেমন গণতন্ত্র? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার দল বাংলার গণতন্ত্র পুরো শেষ করে দিয়েছে। চুরিতে একের পর এক রেকর্ড গড়েছে। আজ সেই দল বলছে কিনা যে বিজেপির ব্লক পর্যায়ে কর্মকর্তাদের বাড়ি ঘেরাও করতে হবে। আর তাদের আট ঘন্টা বাড়ি থেকে বেরতে দেওয়া হবে না। বাড়িতে কাউকে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। পুরো ভারতে আমাদের বিপক্ষ দলের সামনে আমরা প্রশ্ন ছুড়ে দিতে চাই এটা কেমন রাজনীতি?”

মণিপুর ইস্যু নিয়ে সুকান্ত বলেন, “মণিপুরের ঘটনা সত্যি ভীষণ দুঃখের। কিন্তু বাংলাও ভালো নেই। এখানে শুধু নারী নির্যাতনের ভিডিও নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ও তার পুলিশ এখানকার নারী নির্যাতনের ভিডিও করতে দেয় না। বাংলাতেও বিজেপি মহিলা কর্মীকে নগ্ন করে হেনস্থা করা হয়েছে।”

কংগ্রেসকে খোঁচা দিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, এই হিংসার জন্য কংগ্রেসও দায়ী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হিংসায় সমর্থন করার জন্য কংগ্রেস দায়ী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *