পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৭ অক্টোবর: দুই ভাইয়ের বচসা, ধারালো অস্ত্র দিয়ে দেওরের পুরুষাঙ্গ কাটলো বৌদি। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুর থানার শিরশী গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত নর্দাস গ্রামের। পুরো ঘটনা জানিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের আহত দেওরের।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী আহত ওই ব্যক্তির নাম, আতাউর আলী, বয়স ৪৫। পেশায় কৃষক আতাউর বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জানা যায়, হরিরামপুর থানার শিরশী গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত নর্দাস গ্রামের বাসিন্দা দুই ভাই। বড়ো ভাই মনসুর রহমান ও ছোট ভাই আতাউর রহমান। পারিবারিক বিষয় নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে মাঝেমধ্যেই ঝামেলা হত। বৃহস্পতিবার সেই বচসা থেকেই উভয়ের মধ্যে শুরু হয় হাতাহাতি। যে সময়ই হঠাৎ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দেওরের পুরুষাঙ্গ কেটে দেয় বৌদি। যা দেখে হতবাক গ্রামবাসীরা। ঘটনার পরেই রক্তাক্ত অবস্থায় আহত ব্যক্তিকে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় চিকিৎসার জন্য। বিষয়টি নিয়ে বৌদি ও দাদা সহ তার এক মেয়ের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আহত দেওর আতাউর আলী। যে অভিযোগ পেয়েই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্ত মনসুর আলীর স্ত্রী- আসমা বিবি ও তার এক বড়ো মেয়ে ওহেদা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার দুই অভিযুক্তকে গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে পাঠায় পুলিশ। যদিও পলাতক রয়েছে মূল অভিযুক্ত মুনসুর রহমান। যার খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে হরিরামপুর থানার পুলিশ।
এবিষয়ে আহত আতাউর আলির স্ত্রী রুকসানা বিবি অভিযোগ করে জানিয়েছেন, মাঝে মধ্যেই ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বাড়িতে ঝগড়া ঝামেলা চলতো ভাসুর এবং জায়ের সাথে। গতকাল টিউবয়েলে হাত মুখ ধোয়াকে কেন্দ্র করে বচসা বাধে। যে তর্ক বিতর্কের মধ্য দিয়ে আমার স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে নেয় অভিযুক্ত আসমা, আমরা তাদের উপযুক্ত শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে আব্দুর রহমান নামে এক গ্রামবাসী অভিযোগ করে জানিয়েছেন, এর আগেও ওদের মধ্যে ঝামেলা চলতো। কাল শুনতে পেলাম টিউবয়েলে হাত মুখ ধোয়াকে কেন্দ্র করে ঝগড়া লেগে যায় তাদের মধ্যে। সেই সময় বৌদি ধারালো অস্ত্র দিয়ে দেওরের গোপনাঙ্গ কেটে দেয়। আমরা চাই তাদের উপযুক্ত শাস্তি হোক।

