পশ্চিমবঙ্গ মেডিকেল কাউন্সিল (ডাব্লুবিএমসি) ভেঙে দিয়ে তদন্তের দাবি

আমাদের ভারত, ২৮ মে: এবার খোদ রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলের (ডাব্লুবিএমসি) সভাপতি ‘জাল’ বলে অভিযোগ উঠেছে। ‘দোষী ডাক্তারদের নিয়ন্ত্রণে’ সর্বোচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এই সংগঠন অবিলম্বে ভেঙে দেওয়ার দাবি জানালো ‘পিপলস ফর বেটার ট্রিটমেন্ট’ (পি বি টি)।

রবিবার কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের ‘চিকিৎসায় অবহেলার’ অগণিত ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে এই স্মারকলিপি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে জমা দেওয়া হয়। দাবি তোলা হয় সংগঠনের সদস্যদের মেডিকেল রেজিস্ট্রেশন বাতিল বা স্থগিত করার।

পিবিটি-র সভাপতি ডাঃ কুণাল সাহা রবিবার বিষয়টি নিয়ে কলকাতা প্রেস ক্লাবে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন। মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া এই স্মারকলিপিতে জানানো হয়েছে, আমাদের জনস্বার্থের মামলার ভিত্তিতে (পিআইএল, ডাব্লুপিএ নং ৮১৪০/২০২২; ডাব্লুপিএ নং ৮১৪০/২০২২) কাউন্সিলের নতুন সদস্যরা ২০২২ সালে বেঙ্গল মেডিকেল অ্যাক্ট, ১৯১৪ (“আইন, ১৯১৪”) এর অধীনে নির্বাচিত বা মনোনীত হয়েছিলেন।

আমরা সম্প্রতি এমন নথি পেয়েছি যাতে দেখা যাচ্ছে নতুন কাউন্সিল (ডাব্লুবিএমসি) সভাপতি ডঃ সুদীপ্ত রায়কে অবৈধভাবে এবং জালিয়াতির মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়েছিল। আমাদের আরটিআই আবেদনের জবাবে, ডাব্লুবিএমসির রেজিস্ট্রার বা এসপিআইও-এর বক্তব্যও পেয়েছি।

১৯১৪ সালের আইনের ১১(১) ধারায় দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা হয়েছে যে নবনির্বাচিত বা মনোনীত সদস্যদের মেয়াদ শুধুমাত্র সরকারি গেজেটে তাঁদের নাম প্রকাশের তারিখ থেকে শুরু হয়। মজার বিষয় হল, নতুন ডাব্লুবিএমসির জন্য সমস্ত নির্বাচিত বা মনোনীত সদস্যদের নাম ২০২২-এর ৩ নভেম্বর অফিসিয়াল গেজেটে প্রকাশিত হয়েছিল (সংযুক্তি- বি)। সুতরাং, নির্বাচিত বা মনোনীত সমস্ত চিকিৎসক আইনত ২০২২-এর ৩ নভেম্বর থেকে নতুন ডাব্লুবিএমসির সদস্য হন। ডাব্লুবিএমসি রেজিস্ট্রার বা এসপিআইও-র বক্তব্যও মিলেছে।

স্পষ্টতই, এটি ডাব্লুবিএমসি-র একটি জালিয়াতি ছিল। কেবল মাত্র ডঃ সুদীপ্ত রায়কে ডাব্লুবিএমসি সভাপতি হিসাবে সবচেয়ে নির্লজ্জ এবং বেআইনী ভাবে নির্বাচিত করার জন্য এটা করা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *