আমাদের ভারত, ১২ মার্চ: অনেকেরই ধারণা এসআইআরের কারণে বাংলায় ভোট ঘোষণা পিছিয়ে যেতে পারে। যেহেতু ৬০ লক্ষ আবেদন এখনো বিবেচনাধীন। তাই সেটা নিষ্পত্তির পর ঘোষণা হবে বিধানসভা ভোট। একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও এমনটি মনে করছিলেন। অনেকেই মনে করেছেন বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে ভোট ঘোষণা করা হবে। কিন্তু এই সবটাই কেবল জল্পনা বলেই শোনা গেছে। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যে কবে ভোট ঘোষণা করা হবে তা এক প্রকার চূড়ান্ত করে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন।
পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বিধানসভা ভোট হবে তামিলনাড়ু, কেরল, অসম ও পন্ডিচেরিতে। শেষ পর্যন্ত কোনো অঘটন না ঘটলে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত বদল করবে না। আর সেটা না হলে ১৬ মার্চ সোমবার বাংলা সহ বিধানসভা ভোট ঘোষণা করবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
বাংলায় ভোট সন্ত্রাসের জন্য নব্বইয়ের দশকের শেষ থেকে বামেদের বিরুদ্ধে লাগাতার নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাতো তৃণমূল কংগ্রেস। বারবার কমিশনের কাছে বলা হত, বাংলায় ভোট স্বচ্ছ আর অবাধ করতে যথাসম্ভব বেশি দফায় ভোট করাতে হবে। সেই দফা বাড়তে থাকে। একসময় সেটা ৮ দফা পর্যন্ত পৌঁছায়। কিন্তু কমিশনের কাছে এখন স্পষ্ট যে এটা একটা মিথ। বিজেপির কাছেও তা অস্বচ্ছ নয়। কারণ এবার যে ভোটের দফা কমে যেতে পারে সেটা দেওয়াল লিখন অনেকদিন আগে শুরু করার ফলে ধরা পড়েছে।
সম্ভবত বাংলায় এবার ভোট হতে পারে দু’ দফায়। ১৬ মার্চ ভোট ঘোষণা হলে প্রথম দফায় ভোটের আগে অন্তত ২৮ থেকে ৩০ দিন সময় দিতে হবে। অর্থাৎ এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি বা তৃতীয় সপ্তাহে হবে প্রথম দফার নির্বাচন। সে ক্ষেত্রে এপ্রিলের মধ্যেই ভোট গ্রহণ ও ফলাফলের ঘোষণাও হয়ে যেতে পারে।
জাতীয় নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ১৮ মার্চ থেকে নমিনেশন জমা নেওয়ার কথা ঘোষণা হতে পারে। তবে বাংলার রাজনীতিকদের অনেকে মনে করছেন, তা হয়তো বাংলার জন্য হবে না। অসম, তামিলনাড়ু, কেরল, পন্ডিচেরিতে এক দফায় ভোট হবে। আর তা শেষ করে তবেই হবে বাংলায় ভোট।
কিন্তু এতকিছুর মধ্যেও ৬০ লক্ষ আবেদনের ভবিষ্যৎ কী? এইসব আবেদনের নিষ্পত্তির কী হবে? সাপ্লিমেন্টারি তালিকাই বা কবে প্রকাশ হবে? গত দশ মাস শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার করেই জানিয়েছে, ভোট ঘোষণায় কোনো বাধা নেই। শুনানিতে জানাগেছে, ৬০ লক্ষের মধ্যে দশ লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তি ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে। তার মধ্যে ৩ লক্ষ ৪ হাজারের মতো আবেদন খারিজ হয়েছে। সাপ্লিমেন্টারি তালিকা কিভাবে প্রকাশ করা হবে তা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি স্থির করবেন বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
আবেদনের নিষ্পত্তি কতদিনের মধ্যে শেষ করা যাবে তা এখন অনিশ্চিত। এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টও নজর রাখছে। বাকিটা আদালতেই পরিষ্কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

