আমাদের ভারত, ৩১ জুলাই: শনিবার হাজরায় বিজেপির “চোর ধরো জেলে ভরো কর্মসূচি ঘিরে” চুড়ান্ত উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পোস্টার লাগাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। সেখান থেকে একরকম হাইজ্যাক করার মতো আটক করা হয় বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে। সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষ করে বলেন, পোস্টার লাগাতে আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভয় পাচ্ছেন। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ভয় তাদের ভালো লাগছে।
দুপুর আড়াইটে নাগাদ বিজেপির কর্মসূচিতে যোগ দিতে পৌঁছানো মাত্র রাজ্য পুলিশ বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে আটক করে। তাকে গাড়ি থেকে নামতে পর্যন্ত দেয়নি পুলিশ, বলে অভিযোগ। কেড়ে নেওয়া হয় তার হাতে থাকা দুর্নীতি বিরোধী পোস্টার। এক পুলিশ কর্মী রীতিমতো সেই পোস্টার তার হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়। এরপর রীতিমতো টানা হ্যাঁচড়া করে পুলিশ তাকে একটি লাল গাড়িতে তুলে লালবাজারে নিয়ে যায়। সন্ধ্যে বেলায় লালবাজার থেকে বেরিয়ে তিনি মিছিল করে দলীয় কার্যালয়ে আসেন। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন সুকান্ত মজুমদার।
তিনি দাবি করেন, রাজ্যে কার্যত অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে। তাই পোস্টার মারতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি আসলে মমতা সরকার ভয় পেয়েছে। তিনি বলেন, “এমার্জেন্সির সময়ে দেখেছিলাম পোস্টার লাগানো অপরাধ। আর দ্বিতীয় বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে ফের দেখলাম পোস্টার লাগানো অপরাধ। মুখ্যমন্ত্রী ভয় পাচ্ছেন বোঝা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে অলিখিত এমার্জেন্সি চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ভয় আমাদের ভালো লাগছে।”
তাকে যখন লালবাজারের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয় সেই সময় বাইরে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। সেই সময়ও বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী সমর্থককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদেরও একে একে জামিন হয়। তারাও সুকান্ত মজুমদারের সাথে মিছিলে পা মেলান। মিছিলের শেষে কর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং তিনি বলেন, ” তৃণমূল সরকারের এই অত্যাচার আর বেশিদিন নেই। দিন গুনতে শুরু করুন। তৃণমূল কংগ্রেস এখন পুলিশ নির্ভর হয়ে গেছে। পোস্টার লাগাতে দেওয়ার মত সাহস নেই তৃণমূল সরকারের। এই সরকারকে উৎখাত করবো আমরা। কোনো বন্দুক, কোনো জল কোনো বোমা আটকাতে পারবে না আমাদের। আগামী দিনে রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়বে।”
হুঁশিয়ারি দিয়ে সুকান্ত মজুমদার আজ জানিয়ে দেন, আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই নবান্ন ঘেরাও করবে বঙ্গ বিজেপি।

