আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ৪ অক্টোবর: জলপাইগুড়িতে তিস্তা নদীর জল বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে। জারি হলো তিস্তার অসংরক্ষিত এলাকায় লাল সংঙ্কেত। জেলা প্রশাসনের তরফে চলছে মাইকিং প্রচার। অন্যদিকে তিস্তা সেতুর জাতীয় সড়ক দিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হল। ধীর গতিতে চলছে দূর পাল্লার ট্রাক থেকে শুরু করে যাত্রী বোঝাই বাস। সেতু সংলগ্ন
তিস্তার বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে। বাঁশ, বালির বস্তা দিয়ে বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। সেতুকে কাউকে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না।

অন্যদিকে তিস্তা সংলগ্ন প্রায় সব গ্রামে জল ঢুকে পড়ল।
মেঘভাঙা বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে সিকিম। তিস্তা নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে, এর জেরে আতঙ্কের পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক রাস্তা, ব্রিজ ভেসে গিয়েছে সিকিমে। যে কারণে জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোর থেকেই তিস্তা নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভোর থেকেই তিস্তা নদীর তীরবর্তী এলাকায় চলছে মাইকিং। সতর্ক করা হচ্ছে এলাকার বাসিন্দাদের।

তিস্তা নদীর তীরবর্তী এলাকায় রয়েছে প্রশাসনিক কর্তারা, যথা এসডিও, বিডিওসহ জেলা পুলিশ প্রশাসনের একাধিক কর্তারা। রাতে যে তিস্তা ছিল শান্ত, গভীর রাতে সেই তিস্তাই ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। ১২ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত তিস্তার জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানাগেছে। আরও বাড়ছে জলস্তর। যার ফলে সমতলের জলপাইগুড়ি জেলার ক্রান্তি, ময়নাগুড়ি, সদর ব্লকের তিস্তা সংলগ্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদিকে তিস্তার সেতু সংলগ্ন এলাকার বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে সিকিম থেকে ২৩ জন সেনা কর্মী ভেসে গিয়েছেন বলে জানাগেছে। জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিস্তা পাড়ের বাসিন্দা রঞ্জিত মল্লিক বলেন, “খুবই আতঙ্কে আছি আমরা। জল ভোর থেকে বাড়ছে। মাইকিং করা হচ্ছে।”

ডিএসপি হেডকোয়ার্টার সমীর পাল বলেন, “মাইকিং করা হচ্ছে, সকলকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। তিস্তা সেতুতেও ভিড় করতে দেওয়া হচ্ছে না।”
জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল স্বরূপ মণ্ডল বলেন, “আমরা ভোর থেকে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে মাইকিং করে চলছি। সকলকে আতঙ্কিত না হয়ে সর্তক থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ফ্লাড শেল্টার খোলা রয়েছে।”

