আমাদের ভারত, হাওড়া, ২০ জুন: শুক্রবার ডিভিসি ৭০ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছিল। আর ডিভিসির ছাড়া জল উদয়নারায়ণপুরের ৩টি জায়গা দিয়ে বাঁধ উপচে গ্রামে ঢুকল। অন্যদিকে জলের তোড়ে আমতা বিধানসভার ভাটোরায় ৩টি বাঁশের সেতু ভেঙ্গে চরম সমস্যার মুখে পড়ল হাওড়া দীপাঞ্চল ভাটোরার ৫০ হাজার বাসিন্দা।
ডিভিসির ছাড়া জল শনিবার বিকেলের পর থেকেই দামোদর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকায় বাঁধ উপচে উদয়নারায়ণপুরের একাধিক গ্রামে জল ঢোকার একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই কারণে শনিবার নদী তীরবর্তী বাঁধ পরিদর্শন করার পাশাপাশি বিধায়ক সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করেছিলেন জেলাশাসক মুক্তা আর্য। আর রবিবার সকাল থেকেই সেই আশঙ্কা সত্যি হল। এদিন সকাল থেকেই উদয়নারায়ণপুরের কুরচি ও সিংটি গ্রাম পঞ্চায়েতের তিনটি জায়গা দিয়ে বাঁধ উপচে গ্রামে জল ঢুকতে শুরু করে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় বাসিন্দারা বালির বস্তা দিয়ে জল আটকানোর চেষ্টা করে পরে সেচ দফতরের কর্মীরা গ্রামে পৌঁছে বালির বস্তা ফেলে জল আটকায়। সেচ দফতর সূত্রে খবর, দুপুরের পর গ্রামে জল ঢোকা বন্ধ হয়েছে। উদয়নারায়ণপুরের বিধায়ক সমীর পাঁজা জানান, শুক্রবারের পর রবিবারেও ৫০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। যদিও এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। এখনও বন্যার মত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।

অন্যদিকে, দামোদরের পাশাপাশি মুন্ডেশ্বরী নদীতেও জলের চাপ বাড়তে থাকায় শনিবার রাতে আমতা বিধানসভা এলাকার ভাটোরায় তিনটি বাঁশের সেতু ভেঙ্গে পড়ে। ফলে হাওড়া জেলার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে দীপাঞ্চল ভাটোরার যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে যায়। বাঁশের সেতু ভাঙ্গার খবর পাওয়ার পরেই রবিবার সকালে এলাকায় পৌছান আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল। মূলত তার উদ্যোগে পুলিশি পাহারায় সীমিত সংখ্যক যাত্রী নিয়ে নৌকায় নদী পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়।
বিধায়ক সুকান্ত পাল জানান, রূপনারায়ণ ও মুন্ডেশ্বরী নদীতে জলের চাপ বাড়লেও এখনই বন্যার আশঙ্কা নেই।
অপরদিকে রবিবার বিকেলে উদয়নারায়ণপুরে নদী তীরবর্তী বাঁধ পরিদর্শন করেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের মন্ত্রী পুলক রায়। এদিন মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন উদয়নারায়নপুরের বিধায়ক সমীর পাঁজা, আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল, উদয়নারায়ণপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুলেখা পাঁজা। পরে মন্ত্রী পুলক রায় আমতায় একটি প্রশাসনিক বৈঠক করেন। এদিন মন্ত্রী বলেন, ডিভিসি জল ছাড়লেও বন্যার কোনওরকম আশঙ্কা নেই।

