কুমারেশ রায়, মেদিনীপুর, ৪ অক্টোবর:
ঘাটালের বিভিন্ন এলাকা থেকে জল কমতে শুরু করেছে। তবে, জল কমতে শুরু করলেও মানুষের দুর্ভোগ কমেনি, কারণ বিভিন্ন এলাকা এখনও জলের তলায়।
প্লাবিত এলাকার রাস্তাঘাট, চাষের জমি, এমনকি মানুষের বাড়ির মধ্যেও বন্যার জল। এখনো বহু মানুষ ত্রাণশিবিরে কিংবা প্রতিবেশীর বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন। পর্যাপ্ত পানীয় জল নেই বলে প্লাবিত এলাকার মানুষজন এর অভিযোগ। ঘাটাল পুরসভার শিলাবতী নদীর পশ্চিম পাড়ের ১২ টি ওয়ার্ড এখনো জলমগ্ন এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আংশিক জলমগ্ন।
তবে, নতুন করে কোনও এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর নেই।
খরার পুরসভার ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ড প্লাবিত।
ঘাটাল, দাসপুর, চন্দ্রকোনা মিলিয়ে প্রায় ৬০০ টি মৌজা প্লাবিত হয়েছে। দাসপুর ব্লকে কংসাবতী বাঁধে কয়েকটি ফাটল দেখা গেলেও সেগুলি প্রশাসন স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় সারিয়েছে। চাষের জমি জলের তলায়। আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন মহকুমার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ এবং কৃষকরা।
দীর্ঘদিন প্লাবিত এলাকায় জল জমে থাকার ফলে এবং দফায় দফায় বন্যার কারণে মানুষজনের দুর্ভোগ বেড়েছে।
মানুষের রুটি রুজিতে টান পড়েছে। শুধু তাই নয়, পুজোর মুখে এই বন্যা পুজো কমিটিগুলোকে চিন্তায় ফেলেছে, কারণ বিভিন্ন এলাকায় যেখানে পূজা মণ্ডপ তৈরি হয় সেখানে এখনো বন্যার জল।
ঘাটালের এসডিও সুমন বিশ্বাস জানিয়েছেন, জল সর্বত্র কমেছে, এখনো পর্যন্ত বন্যা জনিত কারণে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্লাবিত এলাকাগুলিতে পানীয় জলের পাউচ পাঠানো হচ্ছে।
ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি দিলীপ মাজি বলেন, ষাট হাজার জলের পাউচ আমরা বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পাঠাচ্ছি। এছাড়াও ঘাটাল থেকে বরদা পর্যন্ত পানীয় জলের ট্যাঙ্ক বসানো আছে।

