আমাদের ভারত, ৬ ডিসেম্বর:ইসলাম ত্যাগ করলেন উত্তরপ্রদেশে শিয়া ওয়াকফ বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ওয়াসিম রিজভি। গাজিয়াবাদের দাসনা মন্দিরে আজ ওই ধর্মান্তরের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মহন্ত নরসিমা আনন্দ সরস্বতী। হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করার পর থেকে রিজভির নতুন নাম হয়েছে জিতেন্দ্র নারায়ণ সিং ত্যাগী।
কেন ইসলাম ত্যাগ করলেন ওয়াসিম রিজভি? সনাতন ধর্ম গ্রহণের পর সংবাদসংস্থাকে রিজভি বলেন, “এটা কোনো ধর্ম পরিবর্তন নয়। ইসলাম থেকে আমাকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। প্রতি শুক্রবার আমার মাথার দাম বেড়ে যাচ্ছিল। ফলে যে কোনঈ ধর্মই আমি গ্রহণ করতে পারি। আমি সনাতন ধর্ম গ্রহণ করলাম। কারণ সনাতন ধর্মই হলো দুনিয়ার সবচেয়ে পুরনো ধর্ম। এই ধর্ম যতটা ভালো তা আর অন্য কোনো ধর্ম নয়। এই ধর্ম মানবিকতার কথা বলে, মানবিকতা শেখায়।এই ধর্মের প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে।”

কিছুদিন আগে কোরানের ২৬টি আয়াত বাতিল করার দাবিতে সুপ্রিমকোর্টে আবেদন করেছিলেন রিজভি। তা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল। কট্টরপন্থীরা তাঁর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল। কিন্তু রিজভির যুক্তি ছিল, ওই সব আয়াত সন্ত্রাসবাদে উৎসাহ দেয়। সুপ্রিম কোর্টে এই আবেদনের পরই রিজভিকে ইসলাম থেকে বিতাড়িত বলে ঘোষণা করা হয়। আয়াত বাতিল করা ছাড়াও হজরত মহম্মদের বেশ কিছু অজানা দিক নিয়ে তিনি একটি বই লেখেন। সেই কারণেও রিজভির বিরোধিতায় মুখর হন কট্টরপন্থী মুসলিমরা।
হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করে জিতেন্দ্র নারায়সিং বলেন, হিন্দুধর্ম একটি জীবনশৈলী। যে কেউ তাঁর ধর্ম বদল করতে পারে। তবে শুধুমাত্র মন্দিরে গিয়ে হিন্দু হওয়া যায় না। এর জন্য একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। এখন থেকে আমি হিন্দুত্বের জন্য কাজ করে যাব।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বেশ কিছু দিন ধরেই উত্তর প্রদেশের মুসলিম সমাজের চক্ষুশূল হয়ে উঠেছিলেন রিজভি। একসময় একটি ভিডিও প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, যে মৃত্যুর পর তাঁকে যেন হিন্দু মতে সৎকার করা হয়, তাঁর মৃতদেহ যেনো তাঁর হিন্দু বন্ধুদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।”
এদিন ধর্ম ত্যাগ করে তিনি বলেন এদেশে মুসলিমরা কোনও রাজনৈতিক দলকে ভোট দেয় না, বরং তারা ভোট দেয় হিন্দু বা হিন্দুদের বিরুদ্ধে।

