CM, SIR, ‘এসআইআর-এর অনিয়ম’, মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগকে নস্যাৎ ভোটকর্তার

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ৫ জানুয়ারি: পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর অনিয়ম নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন অফিসারের (সিইও) তরফে নস্যাৎ করা হল। ভারতের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রীর লেখা চার পৃষ্ঠার চিঠি রবিবার প্রকাশিত হওয়ার পরেই প্রশ্ন উঠেছিল। প্রায় পয়েন্ট ধরে ধরে নস্যাৎ করেছেন নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।

এদিন সিইও মনোজ অগ্রবাল নয়াদিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর কাজ কিভাবে এবং কতটা এগিয়েছে, তা জানান। সূত্রের খবর, চিফ ইলেকশন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে ওই আলোচনায় কমিশনের একাধিক কর্তাব্যক্তি হাজির ছিলেন। এই রাজ্যে এসআইআর-এর ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী কমিশনকে সতর্ক করে নিজেদের অসঙ্গতি ও ভুলভ্রান্তি অবিলম্বে শুধরে নিতে লিখেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর তোলা অভিযোগের ভিত্তি নেই বলে দাবি করেছে এসআইআর-এর সর্বোচ্চ মহল।

উদাহরণ দিতে গিয়ে এক নির্বাচন-কর্তা এই প্রতিবেদককে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, “অনিশ্চয়তা ও  স্বেচ্ছাচারিতার ফলে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা গণতন্ত্রের পক্ষে ভয়ঙ্কর”। এই অভিযোগ নিছকই ভিত্তিহীন। কোনও বৈধ ভোটদাতার নাম ভোটার তালিকা থেকে যাতে বাদ না যায়, তার জন্য সব রকম সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। চূড়ান্ত খসরা তালিকা প্রকাশের আগে খসরা তালিকা দলের প্রতিনিধির (বিএলএ টু) মতামত নিয়ে নেওয়া হবে। আগের তালিকায় যাঁদের নাম ছিল, সেই ভোটদাতারা অন্যত্র চলে গেলে বা, মারা গেলে তাঁদের নাম নয়া তালিকায় রাখা হবে না।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে  ব্যাকএন্ড থেকে ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলা হচ্ছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন  অফিসারদের অনুমোদনই নেওয়া হয়নি। এটিকেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত অভিযোগ বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচনকর্তা।

কমিশনের নির্দেশ বারবার বদলাচ্ছে, কখনও 
হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেজে ‘অনানুষ্ঠানিক’ নির্দেশ 
দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এই অভিযোগ তুলে দাবি করেছেন, এসবের কোনও লিখিত বিজ্ঞপ্তি বা 
আইনি ভিত্তি নেই। নির্বাচনকর্তাদের দাবি, কোনও প্রমাণ ছাড়া এরকম প্রকাশ্য অভিযোগ করা যায় না। করা উচিতও নয়।

অসুস্থ বা বয়স্কদের হেনস্থা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ প্রসঙ্গে নির্বাচনকর্তার দাবি, “এই শুনানী পর্ব আধা-বিচারের নিরিখে (কোয়াসি জুডিশিয়াল) হচ্ছে। তাই এই কাজে যথেষ্ঠ সচেতনতা ও পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। একটা বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে, প্রচুর সংখ্যক আবেদনে জাল সরকারি নানা ধরণের নথি দাখিলের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এই সব আবেদনকারীর একটা বড় অংশ ‘বিদেশ’ থেকে আগত।

রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, যাঁদের ‘পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট’ এবং ‘ডোমিসাইল সার্টিফিকেট’ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের স্বার্থে দেওয়া হয়েছিল। এসআইআর-এ সর্বক্ষেত্রে ওই সব তথ্য বা নথিকে মান্যতা দেওয়ার আইনি অসুবিধা আছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অসুস্থ বা বয়স্কদের নথি খতিয়ে দেখতে, বা তাঁদের সুবিধার্থে যথাসম্ভব ইআরও এবং এইআরও মোতায়েন করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর অভিযোগপত্রের শেষে লিখেছেন, “…..দিস আনপ্ল্যানড, আরবিটরারি অ্যান্ড অ্যাডহক এক্সারসাইজ মাস্ট বি হল্টেড”। নির্বাচনকর্তার দাবি, শুনানী পর্বের শেষে যে তালিকা প্রকাশিত হবে, তাতে বাদ পড়া কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন, বৈধতা থাকা সত্বেও তাঁর নাম তালিকায় ওঠেনি, সেই প্রমাণ অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে। কোনও অবৈধ ভোটারের নাম তালিকায় না রাখার ব্যাপারে আমরা যতটা সতর্ক, ততটাই সতর্ক বৈধ কোনও ভোটারের নাম যাতে তালিকা থেকে বাদ না পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *