জে মাহাতো, আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ২৭ ফেব্রুয়ারি: রাজ্য পুলিশ অশান্তি এড়াতে পারল না পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তিন পুরসভার নির্বাচনে। ভোট শুরু হওয়ার পর থেকে কাঁথি পৌরসভা জুড়েই ছিল বিক্ষিপ্ত অশান্তি। পুলিশ দিয়ে দফায় দফায় আটকে দেওয়া হল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভাই সৌমেন্দু অধিকারীকে।
অন্যদিকে ধস্তাধস্তির মুখে পড়েন মন্ত্রী অখিল গিরি ও তার পুত্র সুপ্রকাশ গিরি। এছাড়াও কাঁথি পুরসভার একাধিক ওয়ার্ডে বহিরাগত দিয়ে ছাপ্পা ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। রবিবার সকালে কাঁথি পুরসভার ১৩নং ওয়ার্ডে ব্যাপক অশান্তির ছবি দেখা যায়। ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী সুপ্রকাশ গিরি। সকাল নাগাদ ওই ওয়ার্ডে যান সৌমেন্দু অধিকারী। সেই সময় সেই বুথে যান সুপ্রকাশ গিরিও। প্রার্থী না হওয়া সত্ত্বেও কেন এভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন সুপ্রকাশ। মুহূর্তের মধ্যেই দু’পক্ষের বচসায় ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সৌমেন্দু অধিকারীকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন সুপ্রকাশ গিরির অনুগামীরা। কিছুক্ষণ পর ওই ওয়ার্ডেই বিজেপির বিরুদ্ধে ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ তোলেন সুপ্রকাশ গিরি। এরপর মন্ত্রী অখিল গিরি ও সৌমেন্দু অধিকারী পৌঁছাতেই দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মন্ত্রীর অভিযোগ, সৌমেন্দুর নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে হেনস্থা করেছে। রাস্তায় বেরিয়ে আক্রান্ত হন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব তথা কাঁথি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সোমনাথ রায়। দুষ্কৃতীরা তাকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। এছাড়াও বেলা গড়াতেই কুড়ি নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা ছাপ্পা ভোট দিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এলাকায় তৃণমূল এবং বিজিপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তুমুল বচসা বেধে যায়। পরে বিজেপি প্রার্থী অপর্ণা বেরা ওই এলাকায় গেলে তিনিও আক্রান্ত হন। প্রতিবাদে স্থানীয় মানুষজন ইভিএম ভাঙ্গচুর করে। তাদের দাবি, তাদের ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না।
এছাড়াও কাঁথি পুরসভার ৩, ৭ এবং ৯ নং ওয়ার্ডে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ব্যাপক ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ তোলা হয়েছে। রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী অখিল গিরির বক্তব্য, “বিজেপি নিজের পায়ের তলার মাটি হারাচ্ছে। তাই এই ধরনের অভিযোগ করছে।” তমলুকের ৫ নম্বর ওয়ার্ডেও ছাপ্পা ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই ওয়ার্ডের বেশ কয়েকজন ভোটার যখন ভোট দিতে যান তখন তাদের ভোট হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। এগরা পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সেক্টর অফিসারের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মানুষজন।
এদিকে কাঁথি পৌরসভা জুড়ে বিক্ষিপ্ত অশান্তির অভিযোগ তুলে বেশ কয়েকবার নির্বাচন কমিশনে ফোন করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
১৪ নং ওয়ার্ডে অন্যান্যবারের মতো ভোট দিলেন কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারী। সাথে ছিলেন পুত্র দিব্যেন্দু অধিকারি। সৌমেন্দুকে পুলিশ আটকে রেখেছে জানতে পেরে তার সাথে দেখা করতে যান তিনি। শিশিরবাবুর বক্তব্য, “এরা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করছে। গণতন্ত্রের এমন অবস্থা আগে কখনো মানুষ দেখেনি।” একইভাবে দিব্যেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি বলবো ভোট হয়ে গেলে কাছের মানুষকে এর প্রতিবাদে পথে নামতে”।
এদিকে শুভেন্দুর নিদান অনুযায়ী দুপুর থেকেই ছাপ্পা ভোটের প্রতিবাদে একাধিক এলাকায় রাস্তার উপর কাঠের গুঁড়ি ফেলে অবরোধে সামিল হন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। কাঁথির দইসাই, পিছাবনী সহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা ঘিরে অবরোধ করেন বিজেপি সমর্থকরা।

