আশিস মণ্ডল, শান্তিনিকেতন, ১ সেপ্টেম্বর: ছাত্র আন্দোলনের উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে মেইল করলেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। সেই সঙ্গে বিশ্বভারতী সাময়িক বন্ধ করার সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেছিলেন ইসি বৈঠকে। তবে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের সবুজ সংকেত না পাওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়েছে উপাচার্যকে।
তিন ছাত্রছাত্রীর উপর থেকে বহিস্কারের নির্দেশ প্রত্যাহার করতে হবে। পদত্যাগ করতে হবে ‘ফ্যাসিস্ট’ উপাচার্যকে। এই দাবিতে শান্তিনিকেতনে উপাচার্যের বাসভবন পূর্বিতাতে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন ছাত্র সংগঠন এসএফআই। তাদের আন্দোলন পাঁচদিনে পড়ল। এই আনদলনের ফলে বিশ্বভারতীতে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। গতকাল বাসভবনে ইসি’র একটি জরুরি সভা ডাকেন উপাচার্য। বৈঠকে উপাচার্য বিশ্বভারতী সাময়িক বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন বলে সূত্রের খবর। তবে প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে সবুজ সংকেত না মেলায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে হয়।
বৈঠকে উপাচার্য জানান, আন্দোলনকারীরা তাঁর বাড়িতে দুধ, কলা, পাউরুটি ঢুকতে দিচ্ছে না। এই খবর পাওয়ার পর আন্দোলনকারীরা এদিন সকালে উপাচার্যের বাড়ির সামনে দুধ, কলা ও পাউরুটি রেখে আসেন। ছাত্রছাত্রীদের দাবি, আমরা কিছু নির্দিষ্ট দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলনে নেমেছি। কাউকে খেতে না দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা আমাদের নেই। তাই আমরা দুধ, কলা ও পাউরুটি দিয়ে এলাম। যদিও এদিন দুই অপরচিত যুবক মোটরবাইকে উপাচার্যের বাস ভবনে খাবার দিতে গেলে বাধা দেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি কোনও অপরিচিত লোক দিয়ে উপাচার্যের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়া যাবে না। তাছাড়া উপাচার্যের যা যা প্রয়োজন ছিল সব দেওয়া হয়েছে। তাহলে নতুন করে খাবার দেওয়া কেন? বাধা পেয়ে ফিরে যান দুই অপরিচিত যুবক।

এদিকে বুধবার সকালে আন্দোলন মঞ্চে উপস্থিত হন কংগ্রেসের জেলা সভাপতি মিল্টন রশিদ। তিনি সকাল থেকে মঞ্চে উপস্থিত হয়ে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের পাশে থাকার বার্তা দেন। এরপরেই উপাচার্যের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। মিল্টন বলেন, “যে শিক্ষক বহিষ্কারের পথ বেছে নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনকে দমাতে চাব তাকে আমরা শিক্ষক বলে মনে করি না। শিক্ষকের কাছে ছাত্রছাত্রীরা সন্তান সম। ভুল ত্রুটি হলে তাদের সতর্ক করা উচিত। কিন্তু এই ফ্যাসিস্ট উপাচার্য ছাত্রছাত্রী থেকে অধ্যাপক, কর্মী সকলকেই বহিষ্কারের জুজু দেখিয়ে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছেন। আমরা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করছি।”

