আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ৪ ডিসেম্বর: এবার গড়াতে চলেছে বিশ্বভারতী ফার্স্ট প্যাসেঞ্জার ট্রেনের চাকা। রেল দফতরের ঘোষণায় খুশি রামপুরহাট সহ এই শাখার বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
রামপুরহাট শহর থেকে কলকাতা সরাসরি পৌঁছনোর অন্যতম ট্রেন বিশ্বভারতী ফার্স্ট প্যাসেঞ্জার। এই ট্রেনকে রামপুরহাট শহরের মানুষের হৃদস্পন্দন বলা চলে। কারণ সরকারি চাকুরিজীবীরা এই ট্রেনে কর্মস্থলে গিয়ে আবার রাতেই ফিরতে পারেন। নিত্যযাত্রীরা এই ট্রেনে একদিনেই কলকাতায় কাজ সেরে বাড়ি ফিরতে পারেন। বহু বেকার যুবক কলকাতা থেকে জিনিসপত্র কিনে দোকানে দোকানে বিক্রি করেন। ফলে বিশ্বভারতী বেকার যুবকদের কাছে আয়ের মাধ্যম বলা যেতে পারে। সেই ট্রেন দীর্ঘ আটমাস ধরে বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছিলেন সর্বস্তরের মানুষ। আগামী ১১ ডিসেম্বর পুরনো সময়েই হাওড়া থেকে বিশ্ব ভারতীর চাকা গড়াবে বলে রেল সূত্রে জানান হয়েছে। একইভাবে হাওড়া – ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস চালু হতে চলেছে ১০ ডিসেম্বর থেকে। রেল দফতরের এই ঘোষণায় খুশি বর্ধমান – সাহেবগঞ্জ লুপ লাইনের মানুষ। রামপুরহাট ফুটপাত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক শাহজাদা হোসেন কিনু বলেন, “আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কলকাতা থেকে সামগ্রী কিনে নিয়ে এসে বিক্রি করি। কিন্তু বিশ্বভারতীর মতো ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। তাই আমরা দাবি রেখেছিলাম বিশ্বভারতী, ইন্টারসিটি, ময়ূরাক্ষী ফার্স্ট প্যাসেঞ্জার ও গণদেবতা এক্সপ্রেস চালু করা হোক। রেল দফতর আমাদের দাবি মেনে আপাতত দুটি ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমরা খুশি”। তৃণমূল প্রভাবিত যাত্রী সংগঠনের নেতা নিয়ামত আলি বলেন, “আমরা সঙ্গঠনগতভাবে ট্রেন চালানোর দাবি জানিয়েছিলাম। রেল দফতর বিশেষ করে বিশ্বভারতী ও ইন্টারসিটি চালু করার কথা ঘোষণা করায় আমরা রেল দফতরকে অভিনন্দন জানাই। তবে একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে কোভিড বিধি মেনে আমাদের সফর করতে হবে। অসচেতনতা আমাদেরই বিপদের দিকে ঠেলে দেবে”।

ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের জেলা সভাপতি অমিতাভ সিং বলেন, “বিশ্বভারতী ফার্স্ট প্যাসেঞ্জার আমাদের কাছে হৃদস্পন্দন। কারণ কম ভাড়ায়, কম সময়ে আমরা এই ট্রেনে রাজ্যের রাজধানীতে যেতে পারছি। আবার সারাদিনের কাজ সারে সেই ট্রেনেই ফেরা যায়। তাই আমরা বিশ্বভারতী ট্রেন চালুর দাবি জানিয়েছিলাম। আমরা খুশি। তবে ময়ূরাক্ষী ও গণদেনতা চালুর দাবি জানাচ্ছি”।

