বিশ্বকর্মা পুজোয় ম্লান দুর্গাপুর, জৌলুস নেই বিশ্বকর্মানগরীতে

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৭ সেপ্টম্বর: ঝাঁপ বন্ধ একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানার। তালাবন্ধ বহু বেসরকারি কারখানা। রাস্তার দুপাশের দুই রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানার, একটি স্ক্যার্প করে বিক্রি হয়েছে। আর একটি নিলামে কিনলেও ১০ বছরের বেশি সময় ধরে কারখানার উৎপাদন কার্যত বিশবাঁও জলে। বন্ধ শিল্পনগরীতে বিশ্বকর্মা পুজোয় জৌলুস নেই। নামমাত্র কিছু পুজো ছাড়া সেভাবে বিশ্বকর্মা পুজো না হওয়ায় ম্লান দুর্গাপুরের খোদ বিশ্বকর্মা নগরী। কারখানার ঝাঁপ বন্ধের আতঙ্ক এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে শিল্পশহরবাসীকে। 

দুর্গাপুরে মাইনিং অ্যান্ড অ্যালয়েড মেশিনারি কর্পোরেশন(এমএএমসি) কারখানা। ঠিক তার বিপরীতে ছিল ভারত অপথালমিক গ্লাস (বিওজিএল) কারখানা। দুটোই রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা। শিল্প কারখানার জন্য তৎসংলগ্ন এলাকার নাম হয়েছে বিশ্বকর্মানগরী। একসময় মহা ধুমধামে পালিত হত শিল্পের দেবতা বিশ্বকর্মার পুজো। পুজোর চারদিন ধরে মেলা বসত। পুজোর আগের দিন থেকে শিল্পশহরবাসীর জমাটি ভিড় থাকত। মেলার সঙ্গে থাকত নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কিন্তু সেসব জৌলুস এখন ফিকে হয়ে গেছে। টাউনশিপ থেকে কারখানা যাওয়ার রাস্তার আজও কঙ্কালসার চেহারা। ২০০২ সালে ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে এমএএমসির। রুজি হারিয়েছে বহু মানুষ। অন্ধকার নেমে আসে বিশ্বকর্মানগরীতে।

এখন কারখানার পরিকাঠামোটুকু থাকলেও জঙ্গল আর লতাপাতায় ঢাকা পড়েছে। ঘাঁটি গেড়েছে জঙ্গলি কুকুর আর বনশুয়োরের দল। বাসা বেঁধেছে বিষধর সাপও। ২০১০ সালে কারখানাটিকে পুনুরুজ্জীবনের জন্য তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হাইকোর্টে নিলামে সর্বোচ্চ দরে কিনে নেয়। কিন্তু ওই পর্যন্ত। কারখানা চালু হয়নি আজও। আবার ২০০৭ সালে বন্ধ হওয়া বিওজিএল কারখানার অস্তিত্বটুকুও নেই। নামটুকু শুধু রয়ে গেছে কারখানার গেট। মরচে পড়া গেট এখনও তার ঐতিহ্য বহন করে। আর কারখানা বন্ধ হওয়ায় বিশ্বকর্মা পুজোর দিন মুখ ম্লান এমএএমসিবাসীর।

আইএনটিইউসি নেতা অসীম চট্টোপাধ্যায় জানান, “এই দিনটা আসলেই মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে যায়। বছর কয়েক আগেও কারখানার গেটে ছোটো করে শুধু নামমাত্র পুজো হত। এবছর সেটাও হবে না। তাই মনটা আরও খারাপ হয়ে গেছে।” তিনি আরও বলেন, “কারখানার উৎপাদিত খনি সরঞ্জামের চাহিদা প্রচুর। নেই শুধু সরকারের মানসিকতা। গত ৮ বছর ধরে তিন সংস্থার কনসোটিয়াম মাসে ২২ লক্ষ টাকা খরচ করছে পরিকাঠামোটুকু দেখভালের জন্য, অথচ উৎপাদন শুরুর বিষয়ে কোনো উৎসাহ নেই। বর্তমানে আমরা দিশাহীন। কারখানায় আদৌ উৎপাদন হবে কি না, সন্দেহ রয়েছে।”

সিপিএম নেতা পঙ্কজ রায় সরকার জানান, “দুর্গাপুরে অতীতে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ও ২০ টিরও বেশি বেসরকারি কারখানা বন্ধ হয়েছে। রুজি হারিয়েছে লক্ষাধিক মানুষ। পরিকাঠামো থাকলেও রাজ্য ও কেন্দ্র কোনো সরকারের পুনরুজ্জীবন নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেই।” পাশাপাশি মাথার ওপর খাঁড়া ঝুলছে অ্যলয় স্টিলের ভবিষ্যত। সেই আতঙ্কে শিল্পশহরবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *