আশিস মণ্ডল, সিউড়ি, ৫ মে: ভোট পরবর্তী হিংসা অব্যাহত বীরভূম জেলাজুড়ে। সব ক্ষেত্রেই অভিযোগের তির তৃণমূলের বিরুদ্ধে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, গণনার পর থেকেই রামপুরহাট বিধানসভার বেলেবাড়ি এলাকায় বেশ কিছু বিজেপি কর্মী সমর্থকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে গ্রামের বেশ কয়েকটি টিউবওয়েল। মুরারই বিধানসভার চাতরা গ্রামে বিজেপি কর্মী পাপু পাণ্ডেকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় তৃণমূল। এরপর থেকেই এলাকার চারজন বিজেপি কর্মী গ্রামছাড়া। সিউড়ি বিধানসভার লম্বোদরপুর গ্রামে দুই বিজেপি কর্মীর বাড়িতে বোমাবাজি এবং ভাঙ্গচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। দুবরাজপুর বিধানসভার গোকরুল গ্রামে তৃণমূল বাহিনীর তাণ্ডব রুখতে লাঠি সোঁটা নিয়ে পথ অবরোধ করে গ্রামের মানুষ। তারা দুবরাজপুর বিধানসভার ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং দুবরাজপুর-খয়রাশোল রাস্তা অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে নিরাপত্তার আশ্বাস দিলে অবরোধ উঠে যায়।

একই ভাবে নানুর বিধানসভার অধিকাংশ গ্রামে অত্যাচার চালায় কিছু দুষ্কৃতী। অভিযোগ তৃণমূল আশ্রিত ওই দুষ্কৃতীরা বেছে বেছে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বাড়িতে আক্রমণ করে। বাড়ির জিনিসপত্র লুঠপাট করা হয়। দোকানের জিনিসপত্র লুঠ করা হয়। কিন্তু কেউই পুলিশে অভিযোগ করার সাহস পাচ্ছেন না। কারণ পুলিশকে ফোনে জানিয়েও সাহায্য মেলেনি।
তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব ভট্টাচার্য বলেন, “বীরভূম শান্ত জায়গা। এখানে হিংসা নেই। তবে কোথাও কিছু হয়ে থাকলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। হিংসাকে আমরা প্রশ্রয় দেব না”।
বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, “জেলার সর্বত্র হিংসা চলছে। আমরা রাজ্যকে জানিয়েছি। বুধবার রাজ্যের একটি প্রতিনিধি দল জেলায় আসছে। তারা হিংসা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করবেন। জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও কথা বলবেন”।

