আমাদের ভারত, ২১ জুলাই:
ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি দেয় বাংলাদেশ নিজেকে। কিন্তু সেই রাষ্ট্রে প্রতিনিয়ত সংখ্যালঘু হিন্দুরা হামলার শিকার হচ্ছে। প্রতি নিয়ত নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে তাদের ওপর। বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর অত্যাচার ক্রমেই বাড়ছে বলে অভিযোগ। সম্প্রতি নড়াইলে শতাধিক হিন্দুর উপর অত্যাচারের ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে বিক্ষোভ দেখালো বিজেপি।
কখনো হিন্দুদের জমি দখল করে নেওয়া হচ্ছে, কখনো বা বাড়ি ঘরদোর ভেঙ্গে আগুন লাগিয়ে লুটতরাজ চলছে। কখনো চলছে হিন্দু মহিলাদের উপর অত্যাচার। আবার কখনো বা হিন্দুর মন্দিরে প্রতিমা ভেঙ্গে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বেছে বেছে হিন্দু শিক্ষকদের উপর হামলা চলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার অভিযোগে হিন্দু ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের নড়াইলে সংগঠিতভাবে হিন্দুদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এই হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশের শাসক দল আওয়ামী লীগের ক্ষমতাসীন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। যে আওয়ামী লিগের নেত্রী খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যিনি কিনা বাংলাদেশের প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে।

অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার সময় সেদেশের পুলিশ আক্রান্তদের কোনও সাহায্য করেনি। নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। অভিযোগ, হামলাকারীদের ইশারায় একেবারে চুপ করেছিল পুলিশ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ গঠন পর্যন্ত সাহায্য করেছে ভারত। মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বহু হিন্দু স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে আত্মবলিদান দিয়েছিল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামা বাংলাদেশকে সাহায্য করেছিল ভারত। পরবর্তী সময়ে যখনই মৌলবাদীদের চাপে হাসিনা বিপদে পড়েছেন সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে ভারত। আর সেই বাংলাদেশেই হিন্দুদের ওপর একের পর এক হামলা হচ্ছে কেন? সরকার কেন হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে পদক্ষেপ করছে না? কেন অভিযুক্তরা শাস্তি পাচ্ছে না? এই প্রশ্ন তুলে বুধবার কলকাতায় বিক্ষোভ দেখালেন বিজেপি।

এর আগে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সহ একাধিক হিন্দু সংগঠন বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে। এবার কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে প্রতিবাদ জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দিল কলকাতার জেলা বিজেপির নেতৃত্ব।
এইপ্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি সঙ্ঘমিত্রা চৌধুরী, বিজেপির কলকাতা উত্তরের সভাপতি কল্যান চৌবে, উত্তর শহরতলী জেলা সভাপতির অরিজিৎ বক্সী, রাজ্য বিজেপি সম্পাদক উন্নয়ন ব্যুরোর সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।

