নলহাটিতে কাঠ পাচার রুখল গ্রামবাসীরা

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ৫ আগস্ট : পাচার করার আগেই যন্ত্র চালিত ভ্যান বোঝাই গাছ আটকালো গ্রামবাসীরা। অভিযোগ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরে ঝড়ে পড়া ওই গাছ সরকারি ভাবে ট্রেন্ডার না করেই পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের মদতে পাচার করছিলেন কয়েক জন যুবক। যদিও গাছ পাচারের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন পঞ্চায়েতের উপপ্রধান দেব দুলাল লেট। তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছে নলহাটি ১ ব্লকের বিডিও। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের নলহাটি ১ নম্বর ব্লকের বাউটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সোনার কুন্ডু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।

গ্রামবাসীদের জানান, সোনারকুন্ডু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মাসখানেক আগে একটি শিমুল গাছ ঝড়ে ভেঙ্গে যায়। যার মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা। পঞ্চায়েতের নির্দেশে গাছটি কেটে রাখা হয়েছিল। শুক্রবার ওই গাছের গুঁড়ি তিনটি যন্ত্রচালিত ভ্যানে পাচার করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে গ্রামবাসীরা যন্ত্রচালিত ভ্যান আটকে বিক্ষোভ দেখতে থেকে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় যন্ত্রচালিত ভ্যান ছুটে পালিয়ে যায়।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গাছ পাচার করার মূল মাথা হচ্ছে পঞ্চায়েতের উপপ্রধান দেব দুলাল লেট। গ্রামবাসীরা বলেন, “আমারা প্রশাসনকে জানিয়েছি। আমারা চাই সরকারি ভাবে গাছটি বিক্রি হোক”।

গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে নলহাটি থানার পুলিশ যায় ঘটনাস্থলে।
পঞ্চায়েতে উপপ্রধান দেব দুলাল বলেন, “ঝড়ে গাছটি পড়ে যাওয়ার কারণে রাস্তা ব্লক হয়ে গিয়েছিল। আমরা গাছটি কেটে পাশে রাখি। এরপর গাছটি যাতে চুরি না হয়ে যায় তার জন্য আমাকে পঞ্চায়েত প্রধান বলেন গাছের গুঁড়ি গুলো বিডিও অফিসে নিয়ে যেতে। সেইমতো লোক দিয়ে সেগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। গ্রামবাসীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন”।

নলহাটি ১ নম্বর ব্লকের বিএমওএইচ প্রসেনজিৎ বিশ্বাস বলেন, “আমি ঘটনাটি শুনেছি। এরপর আমি নলহাটি থানায় জানাই। সেই সঙ্গে ব্লক প্রশাসনের আধিকারিককেও জানিয়েছি। পুলিশকে তদন্ত করে দেখার জন্য অনুরোধ করেছি”।

নলহাটি বিডিও মধুমিতা ঘোষ বলেন, “বিষয়টি আমি শুনলাম। খবরটি শোনার পর আমি নলহাটি থানায় জানাই। সেখানে পুলিশ প্রশাসন গিয়েছে। গাছটি যাতে নিয়ে যেতে না পারে সেটা আমারা দেখছি”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *