আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ৮ আগস্ট: অনিয়মিত পরিষেবা এবং রেশন সামগ্রী কম দেওয়ার অভিযোগে ডিলারের বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামবাসীরা। বিক্ষোভের মাঝেই ডিলারের ছেলে দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের নলহাটি ১ নম্বর ব্লকের কয়থা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভেলিয়ান গ্রামে।
জানা গিয়েছে, ভেলিয়ান গ্রামের নৈমাতুন বিবির এলাকার রেশন ডিলার। সেই দোকান চালান তাঁর ছেলে আবাদ শেখ। অভিযোগ, মাসে একদিন করে খোলা হয় রেশনের দোকান। ঝোলানো হয় না প্রাপ্য রেশন সামগ্রীর বোর্ড। আবার অন্নপূর্ণা, অন্ত্যদয় যোজনায় সামগ্রী ওজনে কম দেন ডিলারের ছেলে। অনিয়মিত দোকান খোলায় কেউ দু’মাস, কেউ তিনমাস ধরে সামগ্রী পাননি। প্রতিবাদে রবিবার সকাল থেকে রেশন ডিলারের দোকান ঘিরে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। বিক্ষোভে সামিল হন পঞ্চায়েত সদস্যও।
গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালাম, রহিমা বিবিরা বলেন, “চারটি গ্রামের মানুষ এই রেশন ডিলারের কাছ থেকে সামগ্রী তোলেন। অনিয়মিত দোকান খোলার ফলে রেশন সামগ্রী সবাই নিতে পারে না। ফলে অনেকের দু-তিনমাস করে সামগ্রী বাকি রয়েছেন। আবার কখনও কখনও দোকান খুললেও চাল, ডাল, আটা ওজনে কম দেন। কোনও মাসে চার দিন ধরে চারটি সামগ্রী দেন। ফলে দিনআনা দিনখাওয়া মানুষজনকে কাজ বন্ধ রেখে রেশন তুলতে যেতে হয়। লকডাউনে সরকার দুঃস্থদের জন্য চাল দিলেও তা দেওয়া হয়নি প্রাপকদের।”

গ্রামের বাসিন্দা পঞ্চায়েত সদস্য আক্তারুজাম্মান বলেন, “এক মাস অন্তর রেশন সামগ্রী দিচ্ছে। চাল ডাল দু-তিন কেজি করে কম দিচ্ছে। গ্রামের মানুষ বার বার আমার কাছে অভিযোগ জানাচ্ছেন। আমি ডিলারের ছেলের কাছে গেলে তিনি বলেন ঠিক দিচ্ছি। কিন্তু কোনও দিন সঠিক সামগ্রী দিচ্ছিলন না। তাই গ্রামবাসীদের বিক্ষোভে আমিও সামিল হয়েছি। বিষয়টি ব্লকে লিখিত ভাবে জানাব।”
ডিলারের ছেলে আবাদ শেখ বলেন, “কাউকে সামগ্রী কম দেওয়া হয় না। মিথ্যা অভিযোগ করে গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছে।”

