বেহাল রাস্তা, জোটেনি বৈতরণী প্রকল্পে শ্মশান, অবহেলার অভিযোগে বুদবুদের শালডাঙার গ্রামবাসীদের ভোট বয়কটের ডাক

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৮ মার্চ: বেহাল রাস্তা। জোটেনি স্থায়ী শ্মশান। উন্নয়নে অবহেলার শিকার। আর তার প্রতিবাদে আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট বয়কটের ডাক দিল গ্রামবাসীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিস্তর শোরগোল পড়েছে রাজনৈতিক মহলে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে গলসি-১ নং ব্লকের চাকতেঁতুল পঞ্চায়েতের শালডাঙা গ্রামে। 

প্রসঙ্গত, চাকতেঁতুল পঞ্চায়েতের শালডাঙা গ্রাম। প্রায় সাড়ে চারশো বাসিন্দা। দামোদর তীরবর্তী কৃষি প্রধান গ্রাম শালডাঙা। অভিযোগ, গ্রামের একাধিক রাস্তা বেহাল দশায়। মাটির রাস্তা কংক্রিট তো দূর অস্ত,  মোরামের দানাটুকুও পড়েনি। খানাখন্দে ভর্তি। আবার কোথাও বড় বড় গর্ত। সুষ্ট ভাবে চলাচল করা যায় না। তবে গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দামোদর নদের তীরে অস্থায়ী শ্মশানে যাওয়ার রাস্তা। অস্থায়ী শ্মশানের পাশে রয়েছে প্রাচীন কালি মন্দির। এছাড়াও নদীর তীরবর্তী হাজার একরের  চাষ জমি। শ্মশান ও চাষজমি যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটি দীর্ঘদিন বেহাল অবস্থায়। প্রায় ৮০০ মিটার ওই মাটির রাস্তাটিতে মোরামের দানাটুকুও পড়েনি। ফলে খানাখন্দে ভর্তি। চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। বর্ষাকালে আরও বেহাল হয়ে পড়ে।

বামদেব পাঁজা, বিশ্বনাথ মন্ডল, কার্তিক রুইদাস প্রামুখ গ্রামবাসীরা জানান, “নদীর পাড়ে অস্থায়ী শ্মশান। রাজ্যে যখন উন্নয়নের জোয়ার বইছে। তখন চাকতেঁতুল গ্রাম পঞ্চাায়েতের শালডাঙা গ্রামে উন্নয়নের ছিটেফোঁটাও জোটে না। বহু আবেদন করেছি। জমি রয়েছে, তবুও বৈতরণী প্রকল্পে স্থায়ী শ্মশান জোটেনি। এমনকি শ্মশান যাওয়ার রাস্তা এতটাই বেহাল, সুষ্ঠভাবে শবদাহ করতে নিয়ে যাওয়া যায় না। বর্ষায় এক হাঁটু করে কাদা হয়। প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে অন্য গ্রামে শবদাহ করতে যেতে হয়। অন্য গ্রাম থেকে যাওয়ায়, সেখানে শবদাহ করতে নানান জটিলতায় পড়তে হয়। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় গ্রামবাসীদের।”

ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা আরও জানান, “এছাড়াও ওই রাস্তা দিয়ে জমির ফসল তুলে আনতে হয়। গবাদি পশুদের বিচরণ ক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ। শ্মশানের রাস্তা ছাড়াও গ্রামের একাধিক রাস্তা কঙ্কালসার অবস্থা। বহুবার আবেদন করেছি। ডেপুটেশন দিয়েছি। কিন্তু কোন সুরাহা হয়নি। নির্বিকার প্রশাসন। শালডাঙা গ্রামকে উন্নয়নে উপেক্ষা করা হচ্ছে। তাই আগামী পঞ্চাায়েত নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছি। গ্রামে পঞ্চাায়েতের উন্নয়ন না হওয়ায় ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত।” ইতিমধ্যে শালডাঙা গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ভোট বয়কটের পোস্টার দিয়েছে গ্রামবাসীরা। 

উল্লেখ্য, গত অর্থ বছরে পূর্ব বর্ধমান জেলার সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী সার্বিক উন্নয়নের নিরিখে অনেকটাই পিছনের সারিতে ছিল চাকতেঁতুল পঞ্চাায়েত। বিশেষ করে এনআরইজিএস কাজ, আবাস যোজনার গৃহ নির্মানে ঢিলেমিতে অনেকাংশে পিছনে ছিল। প্রসঙ্গত,
“গত ২০১৯ লোকসভা ভোটের নিরিখে চাকতেঁতুল অঞ্চলে বিজেপি ৩ হাজারেরও বেশী ভোটে এগিয়েছিল। আবার গত বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখে ওই অঞ্চলে ভাল ভোট পেয়েছে বিজেপি। তবে, চাকতেঁতুল পঞ্চায়েতে এক সংখ্যা গরিষ্ঠতায় বোর্ড গঠন করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, যেখানে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতায় বোর্ড রয়েছে। সেখানে রাস্তাঘাট উন্নয়নে পিছনের সারিতে কেন? যদিও, বিজেপির পুর্ব বর্ধমান জেলার সহ সভাপতি রমন শর্মা জানান, “দ্বিচারিতা করছে। সুষ্ঠ নির্বাচন হলে চাকতেঁতুল অঞ্চলে বিজেপি পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করবে। বিজেপির ভাল ভোট থাকায় উন্নয়নমুলক কাজ সেভাবে করছে না বর্তমান তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত বোর্ড। তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

তবে চাকতেঁতুল পঞ্চায়েত প্রধান অশোক ভট্টাচার্য জানান, “গত অর্থ বছরে বেশ কয়েকটি রাস্তা, ড্রেন কংক্রিটের করা হয়েছে। পানীয় জলের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে পঞ্চাায়েতের বিভিন্ন গ্রামে এমজিএনআরইজিএস প্রকল্পে ২৭ টি রাস্তা কংক্রিটের করার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ব্লকে পাঠানো হয়েছে। তারমধ্যে শালডাঙা গ্রামের তিনটি রাস্তা রয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর টেন্ডার করে খুব শীঘ্রই ওইসব রাস্তার কাজ শুরু করা হবে।”

গলসি-১ নং বিডিও দেবলিনা দাস জানান, “এখনও কোনো অভিযোগ আসেনি। তবুও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *