সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২২ ফেব্রুয়ারি: তৃণমূলের ব্লক সাধারণ সম্পাদক পদে এক ভিলেজ পুলিশের নাম ঘোষণা হতেই বাঁকুড়া জেলা জুড়ে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। এই ঘটনায় সরব হয়েছে বিরোধী দল বিজেপি।
অভিযোগ, সিমলাপাল ব্লকের বিক্রমপুর গ্রামের ভিলেজ পুলিশ হিসাবে ২০১২ সাল থেকে কর্মরত রয়েছেন মধুসূদন কর্মকার। গত শনিবার প্রকাশিত তৃণমূলের সিমলাপাল ব্লক কমিটির তালিকায় সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন ওই ভিলেজ পুলিশ। এই তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই জোর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একজন ভিলেজ পুলিশ কিভাবে শাসক দলের এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে পারেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছে বিরোধী দল থেকে সাধারণ মানুষ। রবিবার জেলার আনাচে কাঁনাচে এই আলোচনা হতে শোনা যায়। এক ভিলেজ পুলিশকে শাসক দলের ব্লক সাধারণ সম্পাদক পদে বসানোর ঘটনায় যথারীতি রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে।
তৃণমূলের যুক্তি, ওই ভিলেজ পুলিশ নিজের দায়িত্ব পালনের পর দলের কাজ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তাই তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এই নিয়ে কটাক্ষ করে বিজেপির বক্তব্য পুলিশ ও তৃণমূল যে এক, এই ঘটনায় তা ফের প্রমাণিত। তাদের অভিযোগ, যোগ্যদের বঞ্চিত করে দলের কর্মীদের সিভিক হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে, এটা তারই প্রমাণ। যোগ্য বঞ্চিতদের এসব মনে রাখা দরকার।
তৃণমূলের সিমলাপাল ব্লক সভাপতি সৌমেন পাত্র এই ঘটনাকে সমর্থন করে বলেন, এর মধ্যে দোষের কিছু নেই। মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নে সামিল হতে চেয়ে বিভিন্ন পেশার মানুষ তৃণমূলের কর্মী হিসাবে কাজ করছেন। সেই কারণে মধুসূদন কর্মকারকে দলের ব্লক কমিটির সাধারণ সম্পাদক করার মধ্যে তেমন দোষের কিছু নেই। সরকারি কাজে থেকেও রাজনীতি করা যায়। মধুসূদন কর্মকার নিজের দায়িত্ব পালনের পর দলের কাজ করতে চেয়েছেন।
বিজেপির তালডাংরা ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি সৌভিক পাত্র বলেন, এ রাজ্যে তৃণমূল ও পুলিশ এক হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনা তারই অন্যতম উদাহরণ। তালডাংরার তৃণমূল বিধায়ক ফাল্গুনী সিংহবাবু অবশ্য বলছেন, কোনো ভিলেজ পুলিশের নাম যদি দলের কমিটিতে থাকে, তাহলে তিনি ব্লক সভাপতিকে তা সংশোধনের জন্য বলবেন।

