প্রশাসনিক উদাসীনতা! নম্বর বিহীন গ্রামের ই-রিক্সা ও বাতিল টোটোর দৌরাত্ম্যে জেরবার বালুরঘাট, যানজটে নাভিশ্বাস পথচলতি মানুষদের

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৮ এপ্রিল: প্রশাসনিক উদাসীনতা, নম্বর বিহীন গ্রামের ই-রিক্সার দৌরাত্ম্যে ঘুম উড়েছে শহরবাসীর। পাল্লা দিয়ে শহরে বাড়ছে বাতিল হওয়া টোটোর দাপট। আর এই দুয়ে মিলে দীর্ঘ যানজটে জেরবার এখন বালুরঘাট শহর। নাভিশ্বাস ওঠবার জোগাড় পথচলতি মানুষজনের। নজর নেই পুরসভার। যদিও টোটো ও ই-রিক্সা সংক্রান্ত কোনো বিষয়ই পুরসভা দেখভাল করে না বলে দায় এড়িয়েছেন পুরসভার চেয়ারম্যান। পালটা দিয়েছেন আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের আধিকারিকও। তার কথায়, শহরের যানজটের কারণ টোটো বা ই-রিক্সা সামান্যতম হলেও, বেশিরভাগটাই দায়ী পুরসভার ঢিলেঢালা নজরদারি।

যাত্রী সুরক্ষার উপর গুরুত্ব দিতে কোর্টের নির্দেশানুযায়ী বেশ কয়েক বছর আগে টোটোকে বাতিল করে ই-রিক্সার উপর বৈধতা প্রদান করে সরকার। যার পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক ই- রিক্সা কোম্পানিকে মাঠেও নামায় সরকার। রাজ্যজুড়ে সেই নির্দেশিকা জারির পরে কিছু ধড়পাকড়ও চালায় প্রশাসন। গুড়িয়ে দেওয়া হয় বেশকিছু সংখ্যক বাতিল হওয়া টোটোও।কিন্তু বেশিরভাগ বাতিল হওয়া টোটোই থেকে যায় বালুরঘাট সহ গোটা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতে। এরপর প্রশাসনের ঢিলেঢালা নজরদারির সুযোগ নিয়ে জেলার সদর শহর বালুরঘাটে দাপিয়ে বেড়াতে শুরু করে বাতিল হওয়া সেই টোটোগুলি।

অন্যদিকে যানজট কমাতে বালুরঘাট শহর লাগোয়া বিভিন্ন অঞ্চলগুলির টোটো ও ই-রিক্সা শহরে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধিনিষেধ জারি থাকলেও আচমকা তা শিথিল করে দেওয়া হয়। আর এর জেরে শহরে অবাধে প্রবেশ শুরু হয় নম্বরবিহিন ই-রিক্সা ও বাতিল টোটোর। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী জেলায় ই-রিক্সার সংখ্যা ৩৩১৯ টি হলেও, শুধুমাত্র বালুরঘাটেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কয়েক হাজার নম্বরবিহীন ই-রিক্সা ও বাতিল হওয়া টোটো। আর যার জেরে দীর্ঘ যানজটে জেরবার হয়ে উঠছে বালুরঘাট শহর। বাড়ছে পথ দুর্ঘটনার সংখ্যাও। প্রায় প্রতিদিনই টোটো ও ই-রিক্সার সংখ্যা বাড়তে থাকায় পথ চলাচলে নাভিশ্বাস উঠবার জোগাড় বালুরঘাট শহরের মানুষদের।

পূর্ণিমা মন্ডল নামে শহরের এক বাসিন্দা বলেন, যানজট এখন যেন বালুরঘাটের একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কোনো টোটো চালকদের ভাতে মেরে নয়, অঞ্চল ও শহর আলাদা করে প্রশাসনের উচিত এব্যাপারে সক্রিয় পদক্ষেপ করা।

অভিজিৎ মালাকার নামে এক বৈধ ই-রিক্সা চালক বলেন, বহুদিন ধরেই তিনি এই পেশার সাথে যুক্ত। আগে যে টাকা রোজগার করতেন এখন তা পারেন না। কেননা গ্রামের বহু টোটো শহরে ঢুকে তাদের রোজগার বন্ধ করে দিয়েছে। প্রশাসনের উচিত এব্যাপারে সক্রিয় পদক্ষেপ করা।

কাজল দেবনাথ নামে অপর এক টোটো চালক বলেন, তার ই-রিক্সার এখনো নম্বর হয়নি। শহর লাগোয়া এলাকা থেকে এসেই টোটো চালাচ্ছেন তিনি।

বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত বলেন, টোটো ও ই-রিক্সার কোনো পরিসংখ্যান পুরসভার কাছে নেই। আরটিওর সাথে কথা বলেই এবিষয়টি তিনি বলতে পারবেন।

জেলা আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের আধিকারিক সন্দীপ সাহা বলেন, শহরজুড়ে রাস্তা দখল করে দোকানপাট চলছে তার জন্যই বেশি যানজট। তাছাড়া বাতিল হওয়া টোটো ও গ্রামের ই-রিক্সা শহরে ঢুকছে, তার কারণও রয়েছে এই যানজটে। তবে অঞ্চল ও শহরের জন্য ই-রিক্সা চলাচলের আলাদা আইন রয়েছে। যা চালু করলেই এসব বন্ধ হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *