কুমারেশ রায়, আমাদের ভারত, ১৬ অক্টোবর: বিদ্যাসাগর প্রতিভার মূল্য দিতেন। গুণগ্রাহীতা কঠিন কাজ, কিন্তু যিনি গুণী তাকে আবিষ্কার করতে পারতেন বিদ্যাসাগর। রেনেসাঁ যুগে বিদ্যাসাগর কি তা বুঝতে হবে।
ঘাটাল পৌরসভার উদ্যোগে বিদ্যাসাগর স্মারক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানে এই কথাগুলি বলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক আবুল বাশার। এদিন ঘাটাল মহকুমার শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য সহ সাতটি ক্ষেত্রে গুণীজনদের বিদ্যাসাগর স্মারক সম্মান দেওয়া হয়।

আবুল বাশার তৎকালীন প্রেক্ষাপট সহ রামমোহন রায়, সতীদাহ প্রথা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বিদ্যা আছে অথচ দয়া নেই, এটা হতে পারে না। দয়া ছিল বলেই বিদ্যাসাগরকে বলা হত দয়ার সাগর বিদ্যাসাগর। তিনি বৃদ্ধ বয়সে সাঁওতালদের মধ্যে কেন ছিলেন সে বিষয়ে তিনি বলেন। বিদ্যাসাগরের জীবনের লড়াই সম্বন্ধেও তিনি বিস্তারিত বলেন। আবুল বাশার ঘাটাল পুরসভার চেয়ারম্যানকে বিদ্যাসাগর বৃত্তি চালু করার প্রস্তাব দেন। তিনি ঘাটালের মহকুমা শাসককে সাহিত্য অনুরাগী বলে মন্তব্য করেন।
ঘাটালের মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস বলেন, ঘাটাল পুরসভা শুধু পরিকাঠামো উন্নয়নই নয়, মানবসম্পদ উন্নয়নের দিকেও এই পুরসভা নজর দিয়েছে। বিদ্যাসাগর মহাশয় জীবদ্দশাতেই মহাপুরুষ হয়েছিলেন এবং জীবদ্দশাতে তাঁর মূর্তি তৈরি হয়েছিল বলে বলেন মহকুমা শাসক।

ঘাটালের এসডিপিও অগ্নিশ্বর চৌধুরী চন্দ্র বিদ্যাসাগরের হার না মানার মানসিকতা নিয়ে বলেন এবং আমাদের প্রত্যেকের বিদ্যাসাগরকে পড়া এবং তাকে নিয়ে পর্যালোচনা করা উচিত বলে তিনি জানান।
ঘাটাল পৌরসভার চেয়ারম্যান তুহিন বেরা বলেন, আমরা পৌর পরিষেবা দেওয়া ছাড়াও সংস্কৃতি এবং মানব সম্পদ উন্নয়নের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছি।
যে সাতজন বিদ্যাসাগর স্মারক সম্মান পেলেন তারা হলেন সাহিত্য ক্ষেত্রে প্রশান্ত সামন্ত, শিক্ষাক্ষেত্রে রতন চন্দ্র সামন্ত, ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিমল চন্দ্র মন্ডল, ছবি আঁকায় পরেশ সামন্ত, সঙ্গীতে তারাপদ বিশুই, ছাত্র আর্বান বারিক এবং সমাজ কল্যাণ ক্ষেত্রে কুইজ ও ম্যানিয়া।
এদিনের অনুষ্ঠানে ছিলেন চন্দ্রকোনা পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রতিমা পাত্র, দাসপুর ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রতিমা দলুই, দাসপুর ২ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি আশীষ হুদাইত সহ অন্যান্যরা।

