বাংলাদেশের দাদাগিরি! ভারতীয় লরি চালকদের বেধড়ক মারধরের ভিডিও ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়, প্রতিবাদে হিলিতে বন্ধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৪ জুন: ভারতীয় লরি
চালকদের ওপর বাংলাদেশের দাদাগিরির ভিডিও ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তুমুল উত্তেজনা হিলি সীমান্তে। রবিবার সকাল থেকে এই ঘটনাকে ঘিরে দিনভর উত্তেজনা চলে দক্ষিণ দিনাজপুরের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের হিলি চেকপোস্টে। অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বন্ধ রেখে এদিন সকাল থেকে তুমুল বিক্ষোভে ফেটে পড়েন লরি চালকরা। বিক্ষোভ দেখানো হয় হিলি এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনেও। ঘটনা জানিয়ে হিলি থানা ও হিলি এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনকে একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন লরি চালকরা।

বিক্ষোভকারী লরি চালকদের দাবি, ভারতীয় লরি চালকরা ওপারে গেলে পানামা বন্দরে কার্যত বন্দি করে রাখা হয়। অসুস্থতা বা জরুরি কোনো বিষয়েও পার্কিং গেটের বাইরে যেতে দেওয়া হয় না ভারতীয় লরি চালকদের। যার সুযোগ নিয়ে ওপারের একাংশ অসাধু ব্যবসায়ী পকেট কাটে ভারতীয় লরি চালকদের। চলে তাদের উপর নানা নির্যাতন বলে অভিযোগ। তীব্র গরমে ৩০ টাকার এক বোতল জল ৬০ টাকা দরে কিনে খেতে হয় লরি চালকদের। শনিবার যে ঘটনা নিয়েই ভারতীয় লরি চালকদের একাংশ প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। আর এতেই লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে তাদের। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে মারধরের ভিডিও ভাইরাল হতেই এদিন সকাল থেকে সে ঘটনা নিয়ে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় হিলি সীমান্তে।

প্রসঙ্গত, ভারত-বাংলাদেশের অন্যতম আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর হিসাবে পরিচিত হিলি স্থলবন্দরটি। যে সীমান্ত দিয়ে প্রায় প্রতিদিন গড়ে ২৫০-৩০০টি মালবোঝাই লরি ওপারে যায়। একইসাথে বাংলাদেশের বেশকিছু সামগ্রীও এপারে আসে হিলি সীমান্ত দিয়ে। অভিযোগ, ভারতীয় লরি চালকরা মাল নিয়ে ওপারের পানামা বন্দরে পৌছাতেই একপ্রকার বন্দি করে রাখা হয় বাংলাদেশের তরফে। সেখানকার বিশেষ ফতোয়ায় বন্দি হয়ে থাকতে হয় ভারতীয় লরি চালকদের। আর যার জেরে চরম সমস্যার মধ্যে পড়েন লরি চালকরা। জরুরী কালীন পরিস্থিতিতেও তাদের বের হতে দেওয়া হয়না বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, লরি চালকরা অসুস্থ হলেও তাদের চিকিৎসা পরিষেবা মেলে না সেখানে বলেও অভিযোগ। আর যে সুযোগ নিয়েই সেদেশের একাংশ অসাধু ব্যবসায়ীরা জল ও খাবারের দ্বিগুন দাম নিয়ে পকেট কাটছে ভারতীয় লরি চালকদের।

এখানেই শেষ নয়, লরিতে মালের ওজন কম রয়েছে এমনটা অভিযোগ তুলে নির্যাতনও চালানো হয় ভারতীয় লরি চালকদের উপর বলে অভিযোগ। যা নিয়ে সরব হতেই বেধড়ক মারধর করা হয়েছে ভারতীয় লরি চালকদের। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন একটি ভিডিও সামনে আসতেই হিলিতে তুমুল আন্দোলনে নামে লরি চালকরা। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় আন্তর্জাতিক বর্হিবাণিজ্য।

সুশীল চন্দ্র দাস, অভিজিৎ দেবনাথ ও জনি মন্ডল নামে লরি চালকরা বলেন, ত্রিশ টাকার জল ষাট টাকা দরে এক বোতল জল কিনে খেতে হয় তাদের। পানামা বন্দরের বাইরে কোন চালককে কোনভাবেই যেতে দেওয়া হয়না। যার প্রতিবাদ করায় তাদের বেশ কয়েকজনকে মারধর করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তি প্রদান না করা হলে অর্নিদিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য।

ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক গৌতম বসাক বলেন, চালকদের উপর অত্যাচার ও মারধরের ঘটনা কখনই তারা বরদাস্ত করবেন না। ঘটনা নিয়ে এক্সপোর্ট এসোসিয়েশনকে এব্যাপারে সদর্থক ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।

হিলি এক্সপার্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি রাজেশ আগরওয়াল বলেন, লরি চালকদের উপর মারধরের একটি ভিডিও তারাও দেখেছেন। যে ঘটনা নিয়ে একটি অভিযোগও তারা পেয়েছেন। বাংলাদেশের সাথে এব্যাপারে তারা যোগাযোগও করেছেন। উভয় দেশের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই মিলতে পারে এর সমাধান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *