রাজ্যে ৪৭ জায়গায় অবরোধ! চিটফান্ডের টাকা দ্রুত ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ ক্ষতিগ্রস্তদের

অশোক সেনগুপ্ত

আমাদের ভারত, ৮ জুলাই: আর্থিক কেলেঙ্কারিতে যুক্ত বিভিন্ন চিটফান্ডের টাকা দ্রুত ফেরতের দাবিতে বৃস্পতিবার বিক্ষোভ দেখান ক্ষতিগ্রস্তরা। ‘অল বেঙ্গল চিটফান্ড সাফারার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর উদ্যোগে চলে রাজ্য জুড়ে অবরোধ।

সংগঠনের রাজ্য সভাপতি রূপম চৌধুরী এই প্রতিবেদককে জানান, “এদেশে স্বাধীনতার পরে সর্ববৃহৎ আর্থিক কেলেঙ্কারি হল চিটফান্ড কোম্পানির টাকা লুঠের কেলেঙ্কারি। পশ্চিমবঙ্গ সহ সারা দেশে আনুমানিক ৭ লক্ষ কোটি টাকা লুঠ হয়েছে। রাজ্যে লুঠের পরিমাণ ৪ লক্ষ কোটি। এই রাজ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ৩ কোটি। সারা দেশে আনুমানিক ৩৫ কোটি। ২০১৩ সালের পর সমস্ত কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ৭ বছর কেটে গেছে। সুপ্রিম কোর্ট সহ বিভিন্ন রাজ্যে হাই কোর্টের নির্দেশে টাকা ফেরতের ব্যবস্থা হলেও হাতে গোনা কিছু মানুষ টাকা পান। এর পরে অদৃশ্য কারণে বন্ধ হয়ে যায়।

এই রাজ্যে সারদা, অ্যালকেমিস্ট, বেসিল, পিনকন কোম্পানি কিছু মানুষকে টাকা ফেরত দিয়েছেন। ২০১৫ সালে হাই কোর্টের নির্দেশে গঠিত বিচারপতি এস পি তালুকদার কমিটি গঠন হয়েছিল। এই কমিটি কয়েকশো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ টাকা ফেরত দিয়েছে। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতি সারদা কোম্পানি সহ চিটফান্ড কোম্পানির টাকা ফেরতের উদ্যোগ নিয়েছেন। হাই কোর্টে চলা মামলাগুলি নিস্পতির জন্য মামলা শুনানির সূচনা করেছেন। আমরা অভিনন্দন জানাচ্ছি।

আমাদের সংগঠন এই দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছে। এই পর্যায়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও শামিল হয়েছি। আমাদের সংগঠন বিগত ৭ বছর ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছে। আমরা দেখেছি সুপ্রিম কোর্টের ও কলকাতা হাইকোর্ট সহ বিভিন্ন রাজ্যে হাই কোর্টের নির্দেশে টাকা ফেরতের নির্দেশ দিয়েছেন। কোর্টের নির্দেশ কোম্পানিগুলো বাস্তবে মানেননি। কেননা আমাদের সংগঠন মনে করে রাজ্য সরকারগুলো ও কেন্দ্রীয় সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে বাস্তবে কোম্পানিগুলো কোর্টের নির্দেশের সামান্যতম মান্যতা দেবে না।

ইতিমধ্যে শত শত মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। কোটি কোটি মানুষ দুর্বিসহ জীবন যাপন করছেন। রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারকে তাদের প্রতিশ্রুতি মত টাকা ফেরতের দায়িত্বের ঘোষণা করার দাবিতে গত ২ জুলাই থেকে দাবি সপ্তাহ পালন করেছি। রাজ্য জুড়ে সভা, মিছিল, অবস্থান পালিত হয়। বৃহস্পতিবার রাজ্যের ৪৭ টি গঞ্জ, শহরে অবরোধ হয়। রাজ্যের ১৮ টি জেলায় এই কর্মসূচিতে শত শত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, এজেন্ট শামিল হন। আমাদের দাবি, এখনও কোম্পানিগুলোর স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে, অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের টাকা ফেরত দিতে হবে।

এখানে উল্লেখ্য ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী এবং তদানীন্তন বিজেপি সভাপতি তথা বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাঁরা দ্বিতীয়বার সরকারে ফিরলে চিটফান্ড কোম্পানির টাকা ফেরত দেবেন। মুখ্যমন্ত্রীও ২০১৯-এর ২৬ জুন বিধানসভায় ঘোষণা করেছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে টাকা আদায়ের আন্দোলন করবেন। কোনও সরকার প্রতিশ্রুতি পালন করেননি। তাই আমরা আদালতের নির্দেশ পালন ও তাদের প্রতিশ্রুতি পালনের দাবিতে আন্দোলনে সামিল হয়েছি। আমাদের আন্দোলনের লাগাতার কর্মসূচি নিয়েছি।
কোটি কোটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আন্দোলন এটি।“

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *