উপাচার্যদের কথা/১ যাদবপুরের প্রথম উপাচার্য— ড. ত্রিগুণা সেন

“উপাচার্য নিজের পুরনো বেয়ারা পূর্ণচন্দ্র মহাপাত্রকে হরিদ্বার বেড়াতে নিয়ে গিয়েছেন, বন্ধুর মতো সব ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন, মন্দিরে পুজো দিতে ঢুকলে নিজে দাঁড়িয়ে তাঁর জুতো পাহারা দিয়েছেন!”

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, কলকাতা, ১৩ জুন: প্রয়াণের পর সবে অতিক্রান্ত হয়েছে সিকি শতক। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের অনেকেরই জানা নেই কী অবিস্মরণীয় প্রতিভা ও কৃতিত্ব লুকিয়ে আছে এই বাঙালি মণীষার মধ্যে। তিনি হলেন ডক্টর ত্রিগুণা সেন (১৯০৫-৯৮)।  যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য (১৯৫৬-১৯৬৬)। ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভার সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬৬ সাল। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবল ছাত্র-বিক্ষোভ চলছে। কোনও উপাচার্যই টিকতে পারছেন না। ত্রিগুণা সেন সদ্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ ছেড়েছেন নীতিগত কারণে। শিক্ষা কমিশনে তাঁরই সুপারিশ ছিল, কোনও উপাচার্যেরই দশ বছরের বেশি ওই পদে থাকা উচিত নয়। এ বার তাঁর ইচ্ছা, রামকৃষ্ণ মিশনের কোনও স্কুলে পড়াবেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে বিএইচইউ-র দায়িত্ব দিল। 

বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা বেনারস স্টেশনে অপেক্ষা করছে, গন্ডগোলের ভয়ে বিএইচইউ কর্তারা ত্রিগুণা সেনকে মোগলসরাই স্টেশনে নামিয়ে নিতে চাইলেন। ছাত্রদের ভয়? ১৯৪৩ সাল থেকে যিনি বর্ষে বর্ষে দলে দলে ছাত্র সামলেছেন, তিনি কেন ভয় পাবেন? উপাচার্য বেনারসেই গেলেন, ছাত্রদের বললেন, তোমাদের যা কিছু সমস্যা, অভিযোগ যদি শুধু আমাকেই বলবে প্রতিশ্রুতি দাও, বাইরের কাউকে নয়, তা হলেই আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকব। ছাত্ররা তাঁর কথা মেনে নিয়েছিল। ছাত্র, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী সকলকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমেই সে দিন শান্তি ফিরেছিল বিএইচইউ-তে। 

১৯০৫ সালে সিলেট জেলার করিমগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জকিগঞ্জ উপজেলা) বিরশ্রী গ্রামে মামার বাড়িতে জন্ম ত্রিগুনা সেনের। পৈত্রিক নিবাস একই মহকুমার মাইজগ্রামে (অসম প্রদেশের করিমগঞ্জ)। তাঁর বাবা গোলক চন্দ্র সেন ছিলেন তৎকালীন সিলেট জেলার করিমগঞ্জ মহকুমার বাদে-কুশিয়ারাকূল পরগনার বিখ্যাত জমিদার রাজকৃষ্ণ দত্ত চৌধুরীর পরিবারের। মামা ছিলেন ব্রতচারী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা বাবু গুরুসদয় দত্ত।

দাদু জমিদার রাজকৃষ্ণ দত্ত চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত বীরশ্রী এম. ই. স্কুলে নিম্ন মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশুনা করে ১৯২১ সালে শিলচর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ত্রিগুণা সেন ম্যাট্রিকুলেশন (মাধ্যমিক) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান পান। পাশাপাশি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। অসংখ্য ব্রিটিশ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনেও নেতৃত্ব দেন। এজন্য ব্রিটিশদের চক্ষুশুল হয়ে পড়েন, দু’বার কারাবরণ করেন।

১৯২৬ সালে তিনি বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউশন থেকে ডিস্টিংশন সহ ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন। ১৯২৯ সালে ড. সেন ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট থেকে স্কলারশিপ নিয়ে জার্মানির মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৩২ সালে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে প্রকৌশল বিদ্যায় পি.এইচ.ডি. ডিগ্রি পান। 

শর্মিষ্ঠা দত্তগুপ্ত জানিয়েছেন, “জার্মানি ১৯৩০-৩১। মিউনিখের একটি রেস্তরাঁয় খেতে আসতেন নিরামিষাশী হিটলার। সস্তায় ভাত-ডালের আশায় ভারতীয় ছাত্রদেরও সেখানে আনাগোনা। ভারত ও আফ্রিকার ছাত্রদের তিনি ঘোর অপছন্দ করেন জেনেও এক দিন রেস্তরাঁয় বসে ভারতের এক গবেষক-ছাত্র তাঁকে বলেন, ‘আমরা যা রোজগার করি তার সবটাই এখানে খরচ হয়, তাতে কিন্তু আপনাদেরই লাভ।’ পেশায় ইঞ্জিনিয়ার ওই তরুণ ভারতীয় গবেষক-ছাত্র তখন বিদেশি ছাত্রদের সংসদের সভাপতিও বটে। ১৯৩০-এ রবীন্দ্রনাথের জার্মানি সফরের সময় তাঁরই উদ্যোগে মঞ্চস্থ হয় ‘চিত্রাঙ্গদা’, নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন ওই ছাত্রনেতা স্বয়ং!

স্টুডেন্ট কার্ড দেখিয়ে সস্তায় জিনিসপত্র কেনা তখন বিদেশি ছাত্রদের জন্য নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছে জার্মানিতে। এক বার এক হিটলারপন্থী জার্মান ছাত্রনেতাকে বুঝিয়েসুঝিয়ে, তাঁর নেশাগ্রস্ত অবস্থার সুযোগে, ভারতীয় গবেষক-ছাত্রনেতাটি তাঁকে দিয়ে সই করিয়ে নিলেন ওই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে। স্টুডেন্ট কার্ড ফের চালু হল বিদেশিদের জন্য। সেই ছাত্রনেতাই পরবর্তী কালের ছাত্রদরদি ও গভীর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ ত্রিগুণা সেন।”

অনেক ভাল চাকরি ও অর্থের প্রলোভনও তাঁকে জার্মানিতে আটকে রাখতে পারেনি। পড়াশুনা শেষ করেই দেশে ফিরে এসে আবারও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। এবার সরকার তাঁর প্রতি আরও কঠোর হয় এবং গ্রেফতার করে। এক বছর কারাবাসের পর ১৯৩৩ সালে তিনি মুক্তি লাভ করেন।

ব্রিটিশ বিরোধী ভূমিকার জন্য তাঁকে বাংলা থেকে বহিষ্কার করা হয়। বাঙলা থেকে বিতাড়িত হয়ে তিনি অসমে টিউবওয়েলের ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু সফল হতে পারেননি। ১৯৪৭ সালের আগ পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে নিষিদ্ধ ছিলেন বলে বিভিন্ন বেসরকরি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ত্রিগুণা সেন যাদবপুরের কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনলজি-র প্রিন্সিপাল হন ১৯৪৪-এ, ’৫৫-য় বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হলে প্রথমে রেক্টর, পরে উপাচার্য।

দেশভাগের সময় পরিবার পরিজন নিয়ে কলকাতায় স্থানান্তরি হন, যা মেনে নেওয়া তাঁর মত দেশপ্রেমিকের জন্য অনেক কষ্টের ছিল। নিয়তির করুণ পরিহাসে ব্রিটিশদের তাড়াতে গিয়ে নিজেই বিতাড়িত হলেন স্বদেশ থেকে। এই পরিণতি কখনো মেনে নিতে পারেননি ড. সেন। প্রিয় মাতৃভূমি থেকে ব্রিটিশরা চলে গেল ঠিকই, শুধু ধর্মের নামে পাকিস্তানীরা নতুন করে পূর্ববঙ্গের দখল নিল, যা ছিল তাঁর মত স্বদেশী আন্দোলনের বিপ্লবী নেতার জন্য বিষাদের, পাশাপাশি চরম অপমানের। সব সময় স্বপ্ন দেখতেন বাঙালিদের স্বাধীন সত্বার, স্বাধীন দেশের। ১৯৪৯ সালে তিনি তৈরি করেন অসামরিক ‘বাংলাদেশ লিবারেশন সেল’। ১৯৭২ পর্যন্ত তিনি ছিলেন এই সেলের প্রধান। 

দেশভাগের পর তিনি কলকাতার রিপন কলেজ ও প্রেসিডেন্সি কলেজে দীর্ঘ দিন শিক্ষকতা করেন। শিক্ষকতা করলেও রাজনীতি ছিল তাঁর অস্থি-মজ্জায়। একটা সময় তিনি কলকাতা পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। শর্মিষ্ঠা দত্তগুপ্ত জানিয়েছেন, “ত্রিগুণা সেন নিজে প্রথম যৌবনে বিপ্লবী দলের সদস্য ছিলেন, তার পর জার্মানিতে ফ্যাসিবিরোধী বিদেশি ছাত্র সংসদের নেতা এবং পরবর্তী কালে দিল্লিতে কংগ্রেস মন্ত্রিসভার সদস্য। কোনও দিনই কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে তাঁর যোগ ছিল না। কিন্তু ডাক্তার অরুণ সেন যখন ‘স্টুডেন্টস হেল্‌থ হোম’ শুরু করেন, তখন সেই হোমের গায়ে কমিউনিস্ট তকমা লেগে থাকা সত্ত্বেও উপাচার্য হেল্থ হোমের কাজকর্ম দেখে বুঝেছিলেন যে তাঁর ছাত্রীছাত্রদের স্বাস্থ্যের খাতিরে ‘স্টুডেন্টস হেল্থ হোম’-এর ইউনিভার্সাল মেম্বারশিপ থাকা দরকার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের! শুধু তা-ই নয়, কলকাতার মেয়র হিসেবে তাঁর কার্যকালের শেষ দিনে, খানিকটা বিধান রায়ের অমতেই, ত্রিগুণা সেন মৌলালির মোড়ে ‘স্টুডেন্টস হেল্থ হোম’-এর জন্য মঞ্জুর করেছিলেন জমির আবেদন!

১৯৬৭ সালে তিনি প্রথমে হন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী এবং ১৯৬৯-এ পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী। ১৯৭২ সালে যখন মন্ত্রিত্ব ছেড়ে চলে আসেন, তখন তাঁকে আর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গাঁধী। ত্রিগুণা সেন ‘না’ বলেছিলেন এই যুক্তিতে; ‘‘আমার গায়ে এখন পুরোপুরি একটা রাজনৈতিক দলের তকমা সেঁটে গেছে। যেখানে যাব, সেখানকার ছাত্ররা আর আমায় বিশ্বাস করবে না!’’ তারপর তাঁকে আর সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে দেখা যায়নি।

বঙ্গবন্ধু যখন স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের কথা ভাবছিলেন তখন ড. ত্রিগুণা সেন ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর। ১৯৬১ সালে যখন অসমের কাছাড়ে ভাষা আন্দোলন হয় তখন তিনি অসমের শিলচরে ছিলেন। এসময় পূর্ব বাংলার নেতাদের সাথে তাঁর পরিচয় হয়। এসব নেতাদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুও ছিলেন। তখন বঙ্গবন্ধুর সাথে বেশ ঘনিষ্ঠতা হয় ড. সেনের। বাঙালিদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র গঠন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বঙ্গবন্ধুকে তিনি পরামর্শ দেন। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতার ব্যাপারে ভূমিকা নেবেন বলে আশ্বস্ত করেন। তিনি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের জন্য তৎকালীন নেহরু সরকারকে প্রভাবিত করার দায়িত্ব নেন। সে অনুযায়ী ১৯৬২ সালে বঙ্গবন্ধু আগরতলায় যান। এ সময় ড. সেন ত্রিপুরার রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। আগরতলায় বঙ্গবন্ধুর সাথে মিটিংয়ের তিনি অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন।

ড. ত্রিগুণা সেন আজাদ বাংলা ও আজাদ পূর্ব পাকিস্তান বেতার কেন্দ্রের অভিজ্ঞতা নিয়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ত্বরান্বিত করতে শক্তিশালী ট্রান্সমিশন বসাতে ইন্দিরা গান্ধীকে পরামর্শ দেন। ১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তখন তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকায় পূর্ববঙ্গ ও ইন্দির গান্ধীর সাথে সেতুবন্ধক হিসাবে কাজ করেন।

১৯৭১ সালের মে মাসে তিনি ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধের বিশেষ দূত হিসাবে আগরতলায় শরণার্থী শিবির ও মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি শরণার্থীদের সান্ত্বনা দেন এবং তাদের সমস্যার কথা শোনেন। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং তাদের অনুপ্রাণিত করেন।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর বিশেষ আমন্ত্রণে ড. ত্রিগুণা সেন ঢাকায় আসেন। আবেগ আপ্লুত হয়ে বঙ্গবন্ধু তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য বঙ্গবন্ধু ড. সেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পরে দুই নেতা দীর্ঘ সময় দেশ গঠনের ব্যাপারে মতবিনিময় করেন ও যুদ্ধ বিধ্বস্ত ঢাকা শহরের কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যারা বিভিন্নভাবে দেশকে সহযোগিতা করেছিলেন তাদের সবাইকে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন সম্মাননা দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ড. ত্রিগুণা সেন।

কলকাতার মেয়র, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী, কত না দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি, কিন্তু তাঁর কাছে সবার উপরে ছিল যাদবপুর। ছাত্রগতপ্রাণ মানুষটি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে তুলেছিলেন, দিয়েছিলেন নিজস্ব আদর্শ ও চরিত্র। ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য ছিল তাঁর অবারিত দ্বার, যে খোলা মনে কথা বলার পরিবেশ তিনি তৈরি করে দিয়েছিলেন তা যাদবপুরের গর্ব। ১৯৬৫ সালে তিনি পদ্মভূষণ খেতাব পান। নেতাজীর স্মৃতিরক্ষায় ১৯৬৭ তে ডঃ ত্রিগুণা সেন মৈরাং লাইব্রেরির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।  
প্রশাসকের পাশাপাশি মানুষটিও কি কম উজ্জ্বল? উপাচার্য নিজের পুরনো বেয়ারা পূর্ণচন্দ্র মহাপাত্রকে হরিদ্বার বেড়াতে নিয়ে গিয়েছেন, বন্ধুর মতো সব ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন, মন্দিরে পুজো দিতে ঢুকলে নিজে দাঁড়িয়ে তাঁর জুতো পাহারা দিয়েছেন! 

১৯৯৮-এর ১১ জানুয়ারি প্রয়াত হন ত্রিগুণা সেন। বয়স হয়েছিল ৯৩। ২০০৬ সালে অসম ইউনিভার্সিটিতে ত্রিগুণা সেন স্কুল অফ টেকনোলজি নামে একটি বিভাগ খোলা হয়। ২০১০ সালে ভারতের ডাকবিভাগ ডক্টর সেনের সম্মানে স্মারক ডাক টিকিট ছাপায়। ২০১২ সালে ‘বিদেশি বন্ধু সম্মাননা ক্রেস্ট’ দেন শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগ সরকার। সেবছর ২০ অক্টোবর ডক্টর সেনের কনিষ্ঠা কন্যা সুহৃদা ভট্টাচার্য ঢাকায় আমন্ত্রিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বাবার পক্ষে সেই সম্মাননা নেন।

২০১৮-র ৯ জুলাই তাঁরই স্মৃতিতর্পণ হয় জাতীয় শিক্ষা পরিষদে। ইন্দুমতী সভাগৃহে এক অনুষ্ঠানে ‘লেসন্‌স ইন লিভিং; স্টোরিজ় ফ্রম দ্য লাইফ অব ত্রিগুণা সেন’ বইটি প্রকাশ করেন ছত্তীসগঢ়ের ভূতপূর্ব রাজ্যপাল শেখর দত্ত, তিনিই উদ্বোধন করেন ত্রিগুণা সেন আর্কাইভ। ছিলেন উপাচার্য সুরঞ্জন দাস, পরিষদের সভানেত্রী সতী চট্টোপাধ্যায় ও সম্পাদক আনন্দদেব মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। বিভিন্ন সময়ে অনেকে লেখালেখি, স্মৃতিচারণ করেছেন ত্রিগুণা সেনকে নিয়ে। অনেকে দেখতে আসেন যাদবপুরে তাঁর আর্কাইভ। সপ্তাহে তিন দিন খোলা থাকে এটি।

লেখা— * কলকাতার কড়চা, আনন্দবাজার পত্রিকা (৯-৭-২০১৮)
* শর্মিষ্ঠা দত্তগুপ্ত, আনন্দবাজার অনলাইন (৪-৮-২০১৮)
* কাওসার চৌধুরী (‘বাঁধ ভাঙার আওয়াজ’, ২৮-৪-২০১৮)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *