আমাদের ভারত, ১৯ অক্টোবর: দুর্গাপুজোর সময় থেকে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার এবং মন্দির ভাঙ্গচুরের প্রতিবাদে আজ কলকাতায় বড়সড় বিক্ষোভ সমাবেশ করল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। রানী রাসমণি রোডে এই সমাবেশ থেকে বাংলাদেশ হিন্দুদের প্রাণ এবং ধন সম্পত্তি রক্ষার আবেদন জানানো হয়।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে এদিন কালকাতার তিনটি এলাকা থেকে মিছিল করে রানী রাসমণি রোডে আসার কথা ছিল। কিন্তু সেই অনুমতি না পেলে না মেলায় মিছিল বাদ দেওয়া হয়। এই সমাবেশে বিজেপির বেশকিছু নেতা-নেত্রীকে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে ছিলেন বিজেপির মহিলা মোর্চার সম্পাদিকা তথা বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল, ময়নার বিধায়ক অশোক দিন্দা, বিজেপির সর্বভারতীয় নেত্রী ভারতী ঘোষ, রাজ্য নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার। এই বিক্ষোভ সমাবেশের মঞ্চে বক্তব্য রাখেন আরএসএসের ক্ষেত্র সংঘ চালক অজয় কুমার নন্দী, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ক্ষেত্র সম্পাদক অমিয় কুমার সরকার এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সর্বভারতীয় সহ-সম্পাদক শচীন্দ্রনাথ সিংহ। সভাশেষে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন এবং রাজ্যপালকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা সৌরিশ মুখার্জি বলেন এই প্রতিবাদ কর্মসূচি তাদের আগামী দিনে আরও জোরদার হবে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশ মেনে তারা বাংলাদেশের হিন্দুদের সুরক্ষার দাবিতে সরব থাকবেন।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অভিযোগ, দুর্গাপুজোর সময় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর যে হামলার হয় তখন প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। একই সঙ্গে তাদের অভিযোগ বাংলাদেশ এত বড় ঘটনা ঘটে গেলেও মুখে কুলুপ এঁটেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তথাকথিত বড় অংশের বুদ্ধিজীবী মহল। অথচ অন্যান্য ঘটনা নিয়ে বেশ চিন্তিত থাকেন তারা, ও সময় অসময়ে পথে নেমে প্রতিবাদও জানান। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতারা বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর এই বর্বরোচিত হামলার জন্য এরাজ্যের হিন্দুরা আঘাতপ্রাপ্ত। তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারত সরকার এবং রাজ্য সরকারকে উত্তেজনা প্রশমনে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশে মৌলবাদীদের হিংসার হাত থেকে রক্ষা পায়নি আন্তর্জাতিক সংস্থা ইসকন মন্দির ও তাদের সন্ন্যাসীরা। নোয়াখালির ইসকনের মন্দিরে হামলা-আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। সেখানে সন্ন্যাসীদের হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামী ২৩ অক্টোবর বিশ্ব জুড়ে ১৫০ র বেশি দেশে ইসকন সংস্থার সদস্যরা প্রতিবাদে সামিল হবেন বলে জানা গেছে।

