কুতুব মিনার চত্বরে ধ্বংস হওয়া মন্দির পুনর্নির্মাণের দাবি তুলল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ

আমাদের ভারত, ১০ এপ্রিল: বর্তমানে যেখানে কুতুবমিনার রয়েছে সেখানে একসময় ২৭টি হিন্দু ও জৈন মন্দির ছিল। সেই মন্দির গুলি আবার নতুন করে নির্মাণ করে দেওয়ার দাবি তুলল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।‌ মন্দির গুলি নির্মাণের পর সকলকে সেখানে প্রার্থনার সুযোগ করে দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে এই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনটি।

সংগঠনের জাতীয় স্তরের নেতা বিনোদ বনসলের কথায়, “আমরা ওখানকার সব এলাকা ঘুরে দেখেছি। যেভাবে ওখানে হিন্দু মন্দির গুলি ধ্বংস করা হয়েছিল সেই দৃশ্য হৃদয়বিদারক। ২৭টি হিন্দু মন্দির ভেঙে সেখানে কুতুব মিনার তৈরি করা হয়েছিল। আমাদের দাবি ওই মন্দির গুলি ফের নতুন করে তৈরি করে সেখানে হিন্দুদের পুজো করতে দিতে হবে।”

শুক্রবার ন্যাশনাল মনুমেন্ট অথরিটির সভাপতি ও বিজেপি নেতা তরুণ বিজয় অভিযোগ করেছিলেন, কুতুব মিনার চত্বরে গণেশের মূর্তি যেভাবে রাখা হয়েছে তা অত্যন্ত অবমাননাকর। তিনি বলেন, হয় ওই মূর্তিগুলো সরিয়ে ফেলা হোক অথবা ওই কুতুব মিনার চত্বরে সম্মানজনকভাবে সেগুলি রাখা হোক।

জানা যায় কুতুব মিনার চত্বরে অবস্থিত মন্দির গুলি পুরোপুরি ভাঙ্গা হয়নি। সেখানে গণেশ বিষ্ণু নটরাজের ছবি রয়েছে। পাশাপাশি জৈন ধর্মেরও একাধিক নিদর্শন ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। দ্বাদশ শতাব্দীতে নির্মিত এই কুতুবমিনার নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। এর আগেও দিল্লির সাকেত আদালতে তিনটি মামলা দায়ের হয়েছিল। তাতে মন্দির পুনর্নির্মাণের আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। আবারো সেই দাবি নতুন করে তুলল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।

ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট এর অন্তর্গত এই কুতুব মিনারকে তৈরি করেছিলেন কুতুব উদ্দিন আইবক। ইঁটের তৈরি মিনারের মধ্যে এটিই বিশ্বের দীর্ঘতম মিনার। এর দৈর্ঘ্য ৭২.৫ মিটার। এতে ৩৭৯টি ঘোরানো সিঁড়ি রয়েছে। দাবি করা হয় এখানে মোট ২৭টি মন্দির ছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ভগবান বিষ্ণু গণেশ সূর্য হনুমান মন্দির ছিল ও জৈন তীর্থঙ্কর ভগবানের উপাসনা স্থল ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *