আমাদের ভারত, ১২ মে: ডাক্তারিতে ডিপ্লোমা কোর্স চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা নিয়ে চিকিৎসা ও রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠন মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে।
সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টরসের সম্পাদক মানস গুমটা বলেন, এটা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করার মতো। এই প্রস্তাব মানুষের স্বাস্থ্য, জীবন নিয়ে খেলা করার সমান। গ্রামের মানুষ, গরিব মানুষের জীবনের কোনও মূল্য নেই? তিন বছরে মডার্ন মেডিসিন আর ১৫ দিনে নার্সিং শেখা যায় নাকি? রাজ্যে ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থেকে মানুষের নজর ঘোরাতে এই প্রস্তাব বলেই মনে করছেন তিনি।
মানসবাবু বলেন, বিশ্ব সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী প্রাথমিক স্বাস্থ্যেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা। সেখানে তিন বছরের কোন চিকিৎসকের কথা সরকার বলছেন, আমরা জানি না। দেশে চিকিৎসক তৈরির নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন। তাদের অনুমতি, অনুমোদন ছাড়া কোনও রাজ্যই ইচ্ছেমতো মডার্ন মেডিসিনের কোনও কোর্স চালু করতে পারে না। কে পড়াবে? কোথায় পড়াবে পড়ুয়াদের? সে সব প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
মানসবাবু বলেন, ভারতবর্ষে চিকিৎসক হওয়ার কিছু নিয়ম আছে। পরীক্ষা দিয়ে পড়াশোনো করে প্রয়োজনীয় ট্রেনিং নিয়ে তবে চিকিৎসক হওয়া যায়। এ তো সিভিক পুলিশের মতো সিভিক চিকিৎসক। এই পরিকল্পনার পিছনে গভীর কোনও উদ্দ্যেশ্য আছে বলে মনে হচ্ছে। আসল সমস্যায় নজর না দিয়ে, মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা আমরা কোনও ভাবেই মেনে নেব না।
মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম, মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টার, সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামের মতো বিভিন্ন সংগঠন। ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের মতে, এই প্রস্তাব এক ভয়ঙ্কর অশনি সংকেত। সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামে সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাস, বলেন, এই প্রস্তাব অবৈজ্ঞানিক এবং জনস্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। এটা ভোটের চমক। মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টারের রাজ্য সম্পাদক বিপ্লব চন্দ্র বলেন, ১৫ দিনে নার্সিং ট্রেনিং অবাস্তব প্রস্তাব।

