কুড়মিদের অবরোধে বিপর্যস্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সাময়িক বন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ৬ এপ্রিল: কুড়মিদের অবরোধে ঝাড়গ্রামের সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িক বন্ধ রাখার কথা জানালেন কর্তৃপক্ষ। ক’দিন ধরে ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পঠনপাঠন বিপর্যস্ত হচ্ছে। এর মাশুল দিতে হচ্ছে পড়ুয়াদের।

সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়, ঝাড়গ্রামের নয়া ভবনে কিছুদিন আগেই শুরু হয়েছে নয়া শিক্ষাবর্ষের পড়াশোনা। উপাচার্য ডঃ অমিয় পাণ্ডা-সহ কিছু আধিকারিক কলকাতায় থাকেন। বিক্ষোভ-অবরোধে এঁরা প্রতিষ্ঠানে আসতে পারছেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদেরও একই অবস্থা। ফলে মার খাচ্ছে কলা ও বিজ্ঞান বিভাগের প্রায় ১১টি বিভাগ ছাড়াও সার্টিফিকেট পাঠ্যক্রম। প্রতিষ্ঠান প্রায় বন্ধ। শুক্রবার গুড ফ্রাইডে, এর পর দু’দিন সপ্তাহান্তের ছুটি। সোমবারের কার্যক্রম নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে এই প্রতিবেদককে জানানো হয়, সাময়িকভাবে ক্লাস স্থগিত রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিয়মিত ক্লাস শুরু হবে।

যাতায়াতে কিছু অসুবিধা হচ্ছে ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজ, রাজা নরেন্দ্রনাথ গার্লস কলেজ, লালগড় গভর্নমেন্ট কলেজের মত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও। সমস্যা হচ্ছে সংলগ্ন পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দাদের অনেকের। মেদিনীপুর শহরের সৌমেন্দু দে বৃহস্পতিবার সকাল সওয়া আটটায় এই প্রতিবেদককে বলেন, “আমি বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে যাচ্ছি। এই লাইনে ট্রেন চলছে। তবে কম। স্টেশনে অপেক্ষা করছি। টাটানগর-খড়্গপুর শাখার ট্রেন বন্ধ। তবে, ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়ার মত অবস্থা হয়নি পশ্চিম মেদিনীপুরের। এখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো চলছে।”

কুড়মি সম্প্রদায়ের আন্দোলনে জাতীয় সড়ক অবরোধের পাশাপাশি বুধবার থেকে খড়্গপুর-টাটানগর শাখার খেমাশুলি স্টেশনে অনির্দিষ্টকালের রেল অবরোধের ফলে রেল যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। আদ্রা ডিভিশনের কুস্তাউর স্টেশনেও অবরোধ হচ্ছে। এর ফলে খড়্গপুর ও আদ্রা ডিভিশনে ট্রেন চলাচলের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

কুড়মি জাতিকে তপশিলি উপজাতির তালিকাভুক্ত করা, সারনা ধর্মের স্বীকৃতি দেওয়া ও কুড়মালি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তপশিলে অন্তর্ভুক্ত করা সহ রাজ্য সরকারের সিআরআই রিপোর্ট ও জাস্টিফিকেশন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানোর দাবিতে গত ১ এপ্রিল থেকে জঙ্গল মহলে “ঘাঘর ঘেরা’ নামে অবরোধ শুরু হয়েছে। বুধবার থেকে তাদের অনির্দিষ্টকালের রেল অবরোধে জঙ্গলমহলের রেল যোগাযোগ প্রায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

খড়গপুর-টাটানগর শাখার খেমাগুলি ও আনা-চাণ্ডিল শাখার কুস্তাউর স্টেশনে অবরোধের কারণে রেলের এই ২ শাখায় ৪৭টি ট্রেন বাতিল করেছে দক্ষিণ-পূর্ব রেল। ৮টি ট্রেন ঘুর পথে চালানো হয়েছে ও যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। পক্তাপুর ডিভিশন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার প্রায় ৮৪টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। ৪টি ট্রেনকে ঘুরপথে ও ৭টি ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।

সংক্ষিপ্ত যাত্রাপথের ট্রেনগুলিকে মূলত আদ্রা স্টেশন থেকে চালানো হবে। বাতিল ট্রেনগুলির মধ্যে খড়্গপুর-হাটিয়া (আপ ও ডাউন) এক্সপ্রেস, হাওড়া-আদ্রা- সিকেপি এক্সপ্রেস, খড়্গাপুর-টাটানগর মেমু স্পেশাল, হাওড়া-ঘাটশিলা মেমু হাওড়া-টিটানগড় ইস্পাত এক্সপ্রেস, টাটানগর হাওড়া স্কিল এক্সপ্রেস, হাওড়া ভুবনেশ্বর জনশতাব্দী এক্সপ্রেস রয়েছে। হাওড়া-সিএসটিএম দূরন্ত এক্সপ্রেস, গীতাগুলি এক্সপ্রেসকে ঘুরপথে চালানো হচ্ছে।

রেলের আঞ্চলিক সিনিয়র ডিসিএম রাজেশ কুমার বলেন, ‘অবরোধের কারণে ট্রেন চলাচলে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। তাই রেল কর্তৃপক্ষ সব ধরনের আগাম ব্যবস্থা নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *