পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ২ ফেব্রুয়ারি: কোলাঘাটের দেহাটি- দেনান- টোপা খাল সংস্কারের কাজের গতিবৃদ্ধি, টোপা-ড্রেনেজ খালের উত্তর জিঞাদা হাইস্কুল সংলগ্ন স্থানে জলসেচের জল যাওয়ার বাধা সৃষ্টিকারী অংশ অপসারণ ও টোপা ড্রেনেজ খালের দুই দিকের বাঁধ কংক্রিট করার কাজ অবিলম্বে শুরু, বরদাবাড় সংলগ্ন অংশে দেহাটি ও টোপা ড্রেনেজ খালে পিএইচই’র পাইপলাইন উঁচুতে সরানো সহ বিভিন্ন দাবিতে আজ কৃষক সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে কোলাঘাটের বিডিও এবং সেচ দপ্তর পাঁশকুড়ার এসডিও’কে ডেপুটেশন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন পরিষদের সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক, সহঃ সম্পাদক সুদর্শন খাটুয়া, গোবিন্দ পড়িয়া ও উদয় শঙ্কর বেরা প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে নারায়ণবাবু অভিযোগ করেন, গত ১লা ডিসেম্বর ব্লকের গুরুত্বপূর্ণ দেহাটী খাল সহ কয়েকটি খাল সংস্কারের বিষয়ে বিডিও সহ সেচ দপ্তরের এসডিও’র উপস্থিতিতে পঞ্চায়েত সমিতির সভাগৃহে সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সংশ্লিস্ট সবাইকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বৈঠকে দেহাটি খালের বরদাবাড় সংলগ্ন অংশ থেকে পাঁশকুড়া বাজার পর্যন্ত সংস্কার করার কাজ ওই সময় থেকেই শুরু করার ব্যাপারে সর্বসম্মতি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই সভার পর দু’মাস অতিক্রান্ত হলেও পাঁশকুড়া ব্লকের দুই জায়গায় সামান্য এবং কোলাঘাট ব্লকের দুই জায়গায় সামান্য কিছু অংশে অল্প মাটি তোলা হয়েছে।
সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এখনো মাটি বের করার পোর্টালই চালু হয়নি। এবং খাল সংস্কারের পূর্বে খালের ভেতরে থাকা বনসৃজনের গাছ কেটে নেওয়া এবং অবৈধ কাঠামোগুলি সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সেচ বা প্রশাসন দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনো মাইক প্রচার সহ কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে যে অংশে জোয়ারের জলে বোরো চাষের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেই অংশের মধ্যে টোপা ড্রেনেজ খালের উত্তর জিঞাদা হাইস্কুল সংলগ্ন স্থানে ব্রিজ নির্মাণের জন্য যে অবস্ট্রাকশন তৈরি করা হয়েছিল তা আজো সম্পূর্ণরূপে না সরানোর ফলে পরমানন্দপুর, চাপদা, বাঁকাডাঙ্গা সহ বেশ কয়েকটি মৌজায় এবারকার জোয়ারের জলে বোরো চাষ বিঘ্নিত হচ্ছে। পাশাপাশি টোপা ড্রেনেজ খালের দুই দিকের খালের বাঁধ পথশ্রী চার প্রকল্পে WBSRDA নির্মাণ করার জন্য ডিসপ্লে বোর্ড দিয়ে গত ৮ই জানুয়ারি থেকে কাজ করার কথা ঘোষণা করলেও এখনো শুরু হয়নি। সব মিলিয়ে উপরোক্ত সমস্যাগুলি সমাধানে পাঁচ দফা দাবি সম্মিলিত স্মারকলিপি সেচ দপ্তরের পাঁশকুড়ার এসডিও এবং বিডিওকে দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি দ্রুত সমস্যার সমাধানে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা না হয়, তাহলে পরিষদ বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বলে নারায়ণবাবু জানান।

