আমাদের ভারত, কলকাতা, ২৮ অক্টোবর: ভারতীয়দের মধ্যে বাড়ছে রক্ত-বিষয়ক নানা অসুখ। পাঁচ শতাংশের কিছু বেশি থ্যালাসেমিয়া রোগী আছেন। কিন্তু ‘সিকলসেল ডিজিজ’ আগামী দিনের বিপদ হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যেই দেশের কয়েকটি অংশে ও কিছু শ্রেণির ষাট শতাংশ মানুষের মধ্যে এই অসুখ দেখা দিয়েছে। এসব খতিয়ে দেখতে কলকাতায় আগামী সপ্তাহে বসবে বড় মাপের সম্মেলন।
এই পরিপ্রেক্ষিতে ইস্টার্ন হেমাটোলজি গ্রুপের পরিচালনায় শুরু হতে চলেছে ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ হেমাটোলজি ও ব্লাড ট্রান্সফিউশনের তেষট্টিতম বার্ষিক সন্মেলন ‘হেমাটোকন-২০২২’। ৩-৬ নভেম্বর বিশ্ব বঙ্গ সম্মেলনে হবে এটি। বিভিন্ন রক্তের রোগ ও রক্তের গঠনগত ত্রুটির বিভিন্ন অত্যাধুনিক চিকিৎসা, গবেষণা ও চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে আলোচনাই এই সন্মেলনের মূল উদ্দেশ্য।
শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ হেমাটোলজি ও ব্লাড ট্রান্সফিউশনের তেষট্টিতম বার্ষিক সন্মেলনে বিষয়টির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন বিশেষজ্ঞ-চিকিৎসকরা। কটক এসসিবি মেডিক্যাল কলেজের হেমাটলজির প্রধান ও অর্গানাইজিং চেয়ার পার্সন প্রফেসর রবীন্দ্র কুমার জেনা, কলকাতা এনআরএস মেডিক্যাল কলেজের হেমাটলজির প্রধান ও অর্গানাইজিং সেক্রেটারি ডাঃ তুফান কান্তি দলুই, আইএসএইচবিটি’র সম্পাদক ডা: মৈত্রেয়ী ভট্টাচার্য এবং হেমাটোকন -২০২২ এর কো চেয়ার পার্সন ডা: শান্তনু বসু সন্মেলনে বক্তব্য রাখেন।
তাঁরা জানান, এই সব রোগের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন রাজ্য সরকারি স্তরে নানান পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও ফল পাওয়া যায়নি। আমাদের দেশ ব্যাপকভাবে বিভিন্ন সংক্রামক, রোগ জটিল অসুখ বা জীবনশৈলি জনিত অসুখের মোকাবিলা করেছে। এইসব অসুখ নিয়ে জনসাধারণ অনেক সচেতন। কিন্তু এর বাইরেও ভারতে এক বিশাল সংখ্যক মানুষ অ্যানিমিয়া, থ্যালাসেমিয়া, সিকলসেল অ্যানিমিয়া, হিমোফিলিয়া বা বিভিন্ন ধরণের রক্তের ক্যান্সারে ভুগছেন।
সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ভারতের প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ মানুষ, বংশগত কারণে, বিভিন্ন অসুখের জন্য বা শুধু অপুষ্টির কারণেই অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন। জিনগত লোহিত রক্ত কণিকার অসুখের বা ‘হিমোগ্লোবিউনোপ্যাথি’র উপস্থিতিও আমাদের দেশে অনেক বেশি। থ্যালাসেমিয়ার মতো ‘সিকলসেল ডিজিজ’ও দেশের বিভিন্ন অংশে বিপদ হয়ে দেখা দিচ্ছে।
চার দিনের এই সন্মেলনে দেশ বিদেশের প্রবাদপ্রতীম বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, গবেষক ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে এই বিষয়ে জ্ঞানের আদান প্রদান হবে। সমৃদ্ধ হবে এদেশের রক্ত সম্পর্কিত চিকিৎসা ব্যবস্থাও। অ্যানিমিয়া ও সিকলসেল অ্যানিমিয়া সম্পর্কিত জনস্বাস্থ্যের উন্নতিই এই সন্মেলনের প্রধান উদ্দেশ্য। আশা করা যায় একই সঙ্গে থ্যালাসেমিয়া ও আন্যান্য রক্তের অসুখ এবং লিউকেমিয়া, মায়োলোমা বা লিম্ফোমার মতো বিভিন্ন রক্তের ক্যান্সারের চিকিৎসার অনেক নতুন দিক উন্মুক্ত হবে।
দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রায় পনেরশো চিকিৎসক এই সম্মেলনে যোগদান করবেন। এঁদের মধ্যে যেমন বিভিন্ন সংগঠনের চিকিৎসকরা আছেন তেমনই আছেন কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরাও। প্রবাদপ্রতীম বাইশ জন হেমাটোলজির অধ্যাপক – বিজ্ঞানীরা সন্মেলনের কর্মশালা পরিচালনা করবেন। বক্তব্য রাখবেন দেশের সাড়ে তিনশো জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
কলকাতায় তেষট্টিতম হেমাটোকন-২২ এর আয়োজক ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ হেমাটোলজি ও ব্লাড ট্রান্সফিউশনের (আইএসএইচবিটি) পূর্বাঞ্চলীয় শাখা ইস্টার্ন হেমাটোলজি গ্রুপ। পূর্ব ভারতের প্রত্যন্ত প্রান্তেও প্রতিটি নাগরিকের কাছেই রক্ত সংক্রান্ত রোগের চিকিৎসার সুযোগ পৌঁছে দেওয়াই তেষট্টি বছরের পুরানো এই দেশের একমাত্র হেমাটোলজিস্টদের আঞ্চলিক সংঠনের উদ্দেশ্য।
এই সংগঠন পূর্ব ভারতে সাধারণ চিকিৎসকদের মধ্যে হেমাটলজির পঠনপাঠন, গবেষণা প্রভৃতির উপরে নিয়মিতভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। চিকিৎসকরা যেমন আছেন, তেমনই আছেন কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা। আইএসএইচবিটি’র শিক্ষা শাখা ‘ইন্ডিয়ান কলেজ অফ হেমাটোলজি’ এগুলি দেখাশোনা করে। এছাড়াও সরকারি পর্যায়ে হেমাটোলজি সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার জন্য সম্প্রতি একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল গঠন করা হয়েছে।

