পার্থ খাঁড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২২ সেপ্টেম্বর: দু’দিন ধরে রেল এবং সড়ক অবরোধ চলার পর গতকাল রাতে ভাঙ্গচুর করল বিক্ষোভকারীরা। ক্ষেমাশুলি স্টেশন চত্বরে চেয়ার টেবিল ভাঙ্গচুর করে বিক্ষোভকারীরা। জাতীয় সড়কে বিভিন্ন যাত্রীবাহী ছোট গাড়ির উপর হামলা করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কুড়মি সমাজের আন্দোলনের তৃতীয় দিনেও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পুরুলিয়ায় অচলাবস্থা চলছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের খেমাশুলি এবং পুরুলিয়ার কুস্তাউর রেলস্টেশনে বৃহস্পতিবারও অবরোধ চলছে। এছাড়া, খেমাশুলির কাছে জাতীয় সড়কেও একইভাবে অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা।

তিনদিন ধরে চলা এই অবরোধের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত করে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু ট্রেনের যাত্রাপথ। এর ফলে চরম সমস্যায় পড়েছেন যাত্রীরা।
কুড়মি জাতিকে তফশিলি জনজাতির সম্প্রদায়ভুক্ত করা এবং কুড়মালি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে মঙ্গলবার থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পুরুলিয়ায়। চলছে রেল এবং সড়ক অবরোধ। বৃহস্পতিবার সেই অবরোধ তৃতীয় দিনে পড়লেও, আন্দোলনে ভাটা পড়েনি। বৃহস্পতিবারও অবরোধের পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মের উপরে চলছে নাচগান। একই দৃশ্য দেখা গিয়েছে খেমাশুলি এবং কুস্তাউর স্টেশনে।
এছাড়া খেমাশুলির কাছে ছয় নম্বর জাতীয় সড়কে চলছে অবরোধ। সমাধানসূত্র না মেলা পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে হুঙ্কার দিয়েছেন কুড়মি সমাজের নেতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো। প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “সরকার আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। সরকারের কোনও সদর্থক ভূমিকা দেখতে পাচ্ছি না।”

