পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৮ জুলাই: মধ্যরাত থেকে বাঁশের খুটি পুঁতে ভ্যাক্সিনের লাইন ধরবার হুড়োহুড়ি বালুরঘাটে। চলল ধাক্কাধাক্কিও। বুধবার রাতে এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় খাসপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় ছুটে যেতে হয় বালুরঘাট থানার পুলিশকে। রাতেই ভ্যাক্সিনের লাইন ধরবার বাঁশের খুঁটি উপড়ে ফেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে পুলিশ। সিভিক ও পুলিশের তৎপরতায় রাত থেকেই শুরু হয় আধার কার্ড দেখে লাইন ঠিক করার কাজ।
বেশকিছুদিন ধরে বালুরঘাট ব্লকের খাসপুরের ওই গ্রামীণ হাসপাতাল চত্বরে রাত থেকে ইট রেখে ভ্যাক্সিন দেওয়ার লাইন ধরবার অভিযোগ উঠছিল একশ্রেণির দালালের বিরুদ্ধে। যার বিনিময়ে সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে টাকা তুলবার অভিযোগও সামনে এসেছিল। গতকাল রাতে ইটের পরিবর্তে বাঁশের খুঁটি পুঁতে লাইন ধরবার চেষ্টা করছিল একশ্রেণির অসাধু চক্র, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা কিছুটা প্রতিবাদ জানাতেই উত্তেজিত হয়ে ওঠে এলাকা। চলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির মতো ঘটনাও।
যদিও তড়িঘড়ি এলাকায় পৌঁছে বালুরঘাট থানার পুলিশ স্বাভাবিক করে পরিস্থিতি। রাতেই বাঁশের খুঁটির লাইন উপড়ে ফেলে আধার কার্ড দেখে লাইন ঠিক করার উদ্যোগ নেয় পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়াররা। পুলিশের এমন উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন ভ্যাক্সিন নিতে গ্রাম গ্রামাঞ্চল থেকে ছুটে আসা লোকেরা। তাদের অভিযোগ, তিন -চারদিন ধরে রাত একটার সময় লাইনে দাঁড়িয়েও ভ্যাক্সিন নিতে পারছেন না। কেননা প্রতিদিনের নির্ধারিত ৫০ টি ভ্যাক্সিন নেবার জন্য তার অনেক আগে থেকেই ইট পেতে এবং বাঁশের খুঁটি পুঁতে লাইন ধরে রাখছিল কিছু লোকজ, যা নিয়ে এদিন রাতে প্রতিবাদ জানাতেই ঝামেলার সৃষ্টি হয়। যদিও পুলিশ এসে বাঁশের সমস্ত খুঁটি উপড়ে ফেলে রাত থেকেই সুষ্ঠভাবে ভ্যাক্সিন নেবার লাইনের ব্যবস্থা করে।

রুপক মন্ডল ও জীবন সরকার নামে ভ্যাক্সিন নিতে আসা দুই ব্যক্তি জানান, বাইরে কাজে যাবার জন্য ভ্যাক্সিন নেওয়াটা খুব প্রয়োজন হয়ে পড়েছে তাদের। কিন্তু এখানে তিন চারদিন ধরে রাত একটার সময় লাইনে দাঁড়িয়েও ভ্যাক্সিন নিতে পারছেন না। খুঁটি পুঁতে কে বা কারা আগে থেকেই জায়গা দখল করছে, যা নিয়েই ঝামেলা চলছিল। যদিও পুলিশ এসে এসব বন্ধ করে দিয়ে সুষ্ঠু ভাবে ভ্যাক্সিন নেবার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।
এলাকার বাসিন্দা সুশান্ত মৈত্র বলেন, প্রতিদিনের মতো এদিন সন্ধে থেকেই কিছু লোকজন এসে পাঁচটি-ছয়টি করে বাঁশের খুঁটি পুঁতে ভ্যাক্সিনের লাইন ধরে চলে যাচ্ছে। অথচ গ্রামের মানুষরা প্রতিদিন এসে ফিরে যাচ্ছেন। আর এতে করে খাসপুর এলাকার মানুষদের বদনাম হচ্ছে। যারই প্রতিবাদ তারা জানিয়েছেন। পুলিশ এসে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করেছে।

