আমাদের ভারত, ২০ এপ্রিল: টিকা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের মধ্যেই কেন্দ্র সরকার ১৮-র উর্ধ্বে সকলকে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্তের ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে ভ্যাকসিন দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত অনেক দেরিতে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে এখন গা বাঁচানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্র। একই সঙ্গে তিনি মোদীর কাছে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য টিকাকরণ নীতি সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
করোনা সংক্রমনের দ্বিতীয় ঢেউয়ে একেবারে নাজেহাল গোটা দেশ তথা রাজ্য। ঝড়ের গতিতে বাড়ছে সংক্রমিতের সংখ্যা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বলছেন ভ্যাকসিন নেই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় করোনা টিকা, আবশ্যকীয় ওষুধ ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে রাজ্য ও কলকাতার সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার দিল্লিতে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন মোদী এবং সেখানেই সিদ্ধান্ত হয় ১ মে থেকে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সকলকে টিকা দেওয়া হবে। করোনা মোকাবিলায় এবার দেশজুড়ে গণ টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হবে। খোলাবাজারেও ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি উৎপাদনের ৫০% রাজ্য ও খোলাবাজার রাজ্যকে বিক্রি করতে পারবে।

কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে একহাত নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “২৪ তারিখ আমি একটা চিঠি লিখেছিলাম কেন্দ্রকে। সেখানে অনুরোধ করেছিলাম যাতে রাজ্য সরাসরি টিকা কিনে মানুষকে দিতে পারে, তার জন্য হস্তক্ষেপ করতে। কিন্তু সেই চিঠির কোনও উত্তর পাইনি। দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ যখন হু হু করে বাড়ছে তখন কেন্দ্র অন্তঃসারশূন্য বিবৃতি দিয়ে দায়িত্ব এড়ানোর পথ নিয়েছে। কেন্দ্র সরকারের ঘোষণায় টিকার কার্যকারিতা, গুণমান, সরবরাহ নিয়ে সমস্যার সমাধানের কোনো পথ দেখানো হয়নি। রাজ্য কত দামে টিকা কিনতে পারবে সে ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। আমাদের আশঙ্কা এর ফলে বাজারে অসাধু প্রবণতা দেখা যেতে পারে। সাধারণ মানুষের টিকা কেনার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।” চিঠির শেষে মুখ্যমন্ত্রী অনুরোধ করেছেন এখন বাজারে টিকা অমিল। দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করা দরকার। যাতে সবাই টিকা পান, তার জন্য স্বচ্ছ, বিশ্বাসযোগ্য, টিকাকরণ নীতি সুনিশ্চিত করা হোক।

