আমাদের ভারত, ১৭ নভেম্বর: জোর করে ধর্ম পরিবর্তন করার ঘটনায় তিন দিন আগেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। জবরদস্তি ধর্ম পরিবর্তন আটকাতে কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া আইন তৈরির সুপারিশ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পরেই বিজেপি শাসিত উত্তরাখণ্ড সরকার এই সংক্রান্ত আইনের বিধান আরো কঠোর করল।
বুধবার উত্তরাখন্ড মন্ত্রিসভার বৈঠকে ধর্ম পরিবর্তন আইনে কঠোর পরিবর্তন আনা হয়েছে। জোর করে ধর্মান্তকরণ জামিন অযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে ওই রাজ্যের আইনে। এছাড়া সাজার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বৃদ্ধি করে দশ বছর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ধামি সরকার।
জোর করে ধর্মান্তর করানো ও লাভ জিহাদ আগেই নিষিদ্ধ করেছিল ওই রাজ্যের সরকার। গত বছর মুখ্যমন্ত্রী ধামি বলেছিলেন, তিনি উত্তরাখন্ড পুলিশকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ এবং লাভ জিহাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশ দিয়েছেন। আরো বলেছিলেন, রাজ্য সরকার জোরপূর্বক ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে আইন আরো কঠোর করবে।
প্রসঙ্গত ২৯১৮ সালের এপ্রিলে ওই রাজ্যের সরকার উত্তরাখণ্ডের ধর্মের স্বাধীনতা আইন পাস করে। এর অধীনে জোরপূর্বক বা প্রতারণামূলক ধর্মান্তকরণের মামলাগুলিকে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হতো না। কারাবাসে মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর, যদিও পাশের রাজ্য উত্তরপ্রদেশের আইনের ধর্মান্তকরণে জামিন অযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হয়। সাজার মেয়াদ দশ বছর। উত্তরপ্রদেশের আইনকে মডেল করে এই আইন তৈরি অথবা সংশোধন করে নিয়েছে বিজেপি শাসিত সরকারগুলি।
গত ১৪ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট ভয় বা লোভ দেখিয়ে ধর্মান্তকরণ একটি গুরুতর বিষয় বলে অভিহিত করেছেন। সোমবার একটি আবেদনের সময় আদালত বলেছি যে জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ শুধুমাত্র ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের বিরুদ্ধে নয়, দেশের নিরাপত্তার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ।
কেন্দ্রের তরফে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা বলেন যে ধর্মান্তরের এই ধরনের ঘটনা আদিবাসী এলাকায় বেশি দেখা যায়। আদালত তখন পাল্টা বলে যদি তাই হয় তাহলে সরকার কি করছে?
এরপর আদালত কেন্দ্রকে এই বিষয়ে কি পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা পরিষ্কার করতে বলেছে। আদালত আরো বলেছে, সংবিধানের ধর্মান্তর বৈধ কিন্তু জোর করে ধর্মান্তকরণ নয়।
বিচারপতি এমআর শাহ এবং হিমা কোহলির বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারকে জোর করে ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সারা দেশের জন্য কঠোর আইন প্রণয়নের দাবিতে মামলা হয়েছে সর্বোচ্চ আদালতে। আইনের দাবির বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে ২২ নভেম্বরের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে এই মাসের ২৮ই নভেম্বর।
‘মনেপ্রাণে হিন্দুত্ববাদী’দের কাছে অনুরোধ। আমাদের সাহায্য করুন। খুব আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে সাড়ে পাঁচ বছর ধরে ২৫ জন রিপোর্টার, বাংলায় একমাত্র আমরাই প্রতিদিন এই ধরণের খবর করছি। 🙏
ব্যাঙ্ক একাউন্ট এবং ফোনপে কোড:
Axis Bank
Pradip Kumar Das
A/c. 917010053734837
IFSC. UTIB0002785
PhonePay. 9433792557
PhonePay code. pradipdas241@ybl

