গুগলের সাহায্যে নিজের মডেল প্লেন উড়িয়ে তাক লাগালো আড়ষার নুনিয়া গ্রামের যুবক উত্তম

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১২ মার্চ: নিজের তৈরি মডেল এরোপ্লেন গ্রামের আকাশে উড়াল পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত এলাকার যুবক উত্তম মাহাতো। ‘ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়’, এই কথা ফের প্রমাণ করল সে।

প্রতিভা আর সত্য চাপা থাকে না কোনওদিন প্রমাণ করল পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত এলাকার যুবক। দিনদরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়ে নিজের বিবিধমুখী প্রতিভাকে সোশ্যাল মিডিয়াতে তুলে ধরেছে বার বার। কিন্তু এই প্রতিভার মূল্যায়ন কবে যে হবে সেই আশাতেই অপেক্ষায় আছে প্রত্যন্ত নুনিয়া গ্রামের যুবক উত্তম মাহাতো।

ছাত্রজীবন থেকেই দারিদ্রের কারণে বিভিন্ন পেশার সাথে যুক্ত হতে হয়েছে, সংসারের হাল ধরতে। পৈতৃক সম্পত্তি জমি চাষে ব্যস্ত সে। মাধ্যমিকে ভালো নম্বর থাকলেও যেতে হয় পেটের তাগিদে ভিন রাজ্যে। ইচ্ছা থাকলেও বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে পারেনি ঠিকই তবে লকডাউনের সময়কে ব্যবহার করে ও অল্প অল্প টাকা জমিয়ে কেবলমাত্র গুগলের সাহায্য নিয়েই তৈরি করেছে সোলার সিস্টেমের খেলনা গাড়ি। ড্রোন, আরসি প্লেন, এমনই একাধিক ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম। আড়ষা থানার সিরকাবাদ এলাকায় তার তৈরি আরসি প্লেন ওড়ানোর সাথে সাথে সফলভাবে ল্যান্ডিং করিয়েছিল সে। তা নিয়ে এলাকাবাসীদের কৌতূহল বাড়ানোর পাশাপাশি কচিকাঁচাদের মন জয় করেছে এই যুবক।

কিন্তু পারিবারিক অভাব বারবার পিছনে টেনে নিয়ে যায় তাকে, এটাই আক্ষেপ তার। ইচ্ছা ছিল পলিটেকনিক কিংবা আইটিআই থেকে পাশ করে আধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রের গবেষণা করা। কিন্তু সেই ইচ্ছা বারবার হোঁচট খেয়েছে অভাবের কারণে। মন ভোলাতে স্থানীয় ঝুমুর গীতের চর্চা করে থাকে সে।

বাবা নিবারণ মাহাতো উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমিতে চাষ বাস সহ কীর্তনীয়ার কাজ করে থাকেন। অন্যদিকে মা সারা বৎসরেই সংসার সামলানোর পাশাপাশি বিড়ি তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকেন বেশিরভাগ সময়। ছেলের ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার কথা কর্মব্যস্ততায় ভুলে এড়িয়ে যেতে বাধ্য হতে হয়েছে তার পরিবারকেও। এমতাবস্থায় পরিবার, প্রতিবেশী সহ উত্তমের ইচ্ছা তার তৈরি আরসি প্লেন এর মতোই আকাশছোঁয়া। তাই সরকারি সহযোগিতার আবেদন জানাল সে।

প্রতিভা বিকশিত করার জন্য আদৌ কি সেই আবেদনে সাড়া মিলবে, না কি প্রত্যন্ত গ্রামের পাহাড়িয়া যুবকের ইচ্ছা অপূর্ণ থাকবে? প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় সিরকাবাদ গ্রামের বাসিন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *