আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, শান্তিনিকেতন, ৫ ডিসেম্বর: পৌষমেলা করার দাবিতে উত্তাল হলো বিশ্বভারতী। পৌষমেলা বাঁচাও কমিটির সঙ্গে নিরপত্তারক্ষীদের ধস্তাধস্তি বেধে যায় বিশ্বভারতী চত্বরে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বলাকা গেট বন্ধ রেখে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে কার্যত বাধা দিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদিন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনের বলাকা গেট ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে চলে বিক্ষোভ। যদিও, কার্যালয়ে ছিলেন না ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সহ কর্মসচিব।

কবিগুরু মার্কেটের ব্যবসায়ী আমিনুল হোদা বলেন, “বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে অসহযোগিতা করলো। ডেপুটেশন জমা দিতে দেবে না বলেই, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে, বাইরে সর্বত্র তালা মেরে রেখেছিল”।প্রসঙ্গত, বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট যৌথ ভাবে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিল এবারও হচ্ছে না ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা। তারপর থেকে শান্তিনিকেতনের আবহাওয়া উত্তপ্ত হতে শুরু করে।
আমিনুল হোদা বলেন, “বিশ্বভারতী শুধুমাত্র পূর্বপল্লীর মাঠটা দিত। শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট, রাজ্য সরকারের সাহায্যে মেলা ঠিকই হতো। আমরা আশাবাদী। হাতে এখনো সময় আছে। বিশ্বভারতী শুধু মাঠটা দিক। ২০১৯ সালে শেষ বার শান্তিনিকেতনে হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা। ২০২০ সালে কোভিড পরিস্থিতির জন্য বন্ধ ছিল মেলা৷ কিন্তু, পরবর্তীতে, অর্থাৎ ২০২১ ও ২২ সালে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী পৌষমেলা বন্ধ করে দেয়৷ যা নিয়ে বিক্ষোভ হয় শান্তিনিকেতনজুড়ে৷

৮ নভেম্বর উপাচার্য হিসাবে মেয়াদ শেষ হয়েছে বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর। নতুন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হয়েছেন সঞ্জয় কুমার মল্লিক। তাই এবার বোলপুর- শান্তিনিকেতনবাসীরা আশা করেছিল এবার হয়তো পৌষমেলা হবে৷ এদিন জেলা শাসক, মহকুমা শাসক, এসএসডিএ এবং শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন ব্যবসায়ী সমিতির সুনীল সিং, কবিগুরু মার্কেটের আমিনুল হোদা, আলাপিনি সমিতির মনীষা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখরা।

