পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৯ এপ্রিল: জেনারেটর বিভ্রাটে দিনভর বন্ধ জেলা হাসপাতালের ইউএসজি সেন্টারের পরিষেবা। চরম সমস্যায় প্রসূতি মহিলারা। শনিবার এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে। সঠিক পরিষেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে প্রসূতি মায়েদের ও অসুস্থ রোগীদের। ঘটনা নিয়ে সরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে তুমুল ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন রোগী ও তার পরিবারের লোকেরা।
বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় তেমন বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় এই জেলার মানুষকে সরকারি হাসপাতালের উপরেই নির্ভর করতে হয়। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে জেলার মানুষকে চিকিৎসার জন্য ছুটে আসতে হয় সদর শহর বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে। শনিবার যে হাসপাতালেই সামনে এসেছে এক চরম অব্যবস্থা ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার চিত্র। সকাল থেকে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি সেন্টারে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকেও পরিষেবা না মেলার অভিযোগ প্রসূতি মহিলা ও অসুস্থ রোগীদের। জেনারেটর বিভ্রাটের জেরেই দিনভর বন্ধ থাকে সরকারি হাসপাতালের ওই পরিষেবা। আর তাতেই ক্ষুব্ধ রোগী ও তার পরিবারের লোকেরা একরাশ ক্ষোভ উগড়েছেন সরকারি হাসপাতালের বেহাল অবস্থা নিয়ে।

জানা যায়, এদিন সকাল থেকেই আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ সেই এলাকায় তাদের কাজ সারছিলেন। আর তার জেরেই বন্ধ ছিল বিদ্যুৎ পরিষেবা। জেনারেটর দিয়ে হাসপাতালের অন্যান্য বিভাগ চললেও পুরোপুরি বন্ধ ছিল ইউএসজি বিভাগের পরিষেবা। আর তার জেরেই জরুরি চিকিৎসা করাতে আসা প্রসূতি মহিলা সহ অনান্য রোগীরাও চরম সমস্যায় পড়েন।
তপন ও পতিরাম থেকে চিকিৎসা করতে আসা মমতা বর্মন, মীনাক্ষী পাল ও উদয় বর্মনরা বলেন, পেটের ছবি তোলবার জন্য সকাল থেকে বসে আছেন। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকার কারণে তারা পরিষেবা দিতে পারছে না। জেনারেটর আছে কি না তারা সেটাও জানেন না। কিন্তু সকাল থেকে বসিয়ে রেখে তাদের খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের এমন অব্যবস্থা দেখে তারাও যথেষ্ট অবাক হয়েছেন। এ বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
বালুরঘাট হাসপাতালের সুপার পার্থ সারথী মন্ডল জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে একটা সমস্যা হয়েছে। জেনারেটরের কানেকশনে একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সহকারি সুপারকে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

