অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ২৩ সেপ্টেম্বর: ‘ব্ল্যাক মানি’ আর প্যারালাল মানি’-র দ্বন্দ্ব অনেক দিন ধরেই ঘুম কেড়ে নিয়েছে অর্থনীতিবিদদের। সেভাবেই কি ভুয়ো খবর সত্যি খবরের সমান্তরাল হয়ে উঠছে? কতটা চিন্তিত মিডিয়া বিশেষজ্ঞরা?
এর উত্তর খুঁজতে শুক্রবার একটি কর্মশালা হল প্রেস ক্লাব, কলকাতায়। আমেরিকান সেন্টারের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পয়েন্টার ইউনিভার্সিটির ‘রিসোর্স পার্সন’ ব্রিটানি কোলার পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, কোনওভাবে ভুয়ো খবরের বাড়বাড়ন্ত চলবে না। তাঁর কথায়, “মে বি ফেক, মে বি নিউজ। বাট নট ফেক নিউজ”।
কর্মশালার শুরুতেই সূত্রধরের ভূমিকায় প্রেস ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক স্নেহাশিস সুর আলোচনার সুর বেঁধে দিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “ফেক নিউজ বলে কিছু হয় না। খবর হতে হবে সত্যনিষ্ঠ, ভিত্তিনির্ভর। আর অজস্র মিথ্যে তথ্যর মধ্যে থেকে তা আপনাকেই বেছে নিতে হবে অভিজ্ঞতা আর সতর্কতার সঙ্গে। এটাই এখন হয়ে উঠেছে ‘মিডিয়া লিটারেসি’-র প্রাথমিক শর্ত। আমাদের দায়িত্ব সঠিক খবর পরিবেশন করা। নিজস্ব বোধের সঙ্গে এর জন্য ব্যবহার করতে হবে প্রযুক্তিনির্ভর কিছু ছাঁকনি।”

আর কর্মশালায় এই হরেক ছাঁকনির হদিশ দিলেন প্রচারমাধ্যমের বিশ্বখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘পয়েন্টার’-এর বিশেষজ্ঞ-গবেষক ব্রিটানি কোলার তাঁর ‘ফ্যাক্ট চেকিং অ্যান্ড কন্টেন্ট ভেরিফিকেশন’ শীর্ষক কর্মশালায়। ১৩ বছর সিএনএন-এর বিভিন্ন স্তরে কাজ করা ব্রিটানি বললেন, “ভুয়ো বিষয় এমনভাবে মিশে যাচ্ছে আসলের সঙ্গে যা ধরা সত্যি অনেক সময় দুষ্কর হয়ে ওঠে। তাই তৈরি হচ্ছেন পেশাদার নজরদারেরা (প্রফেশনাল ফ্যাক্টচেকার)।” মিসইনফর্মেশন আর ডিসইনফর্মেশনের পার্থক্যের নানা নমুনা পাওয়ার পয়েন্টে দেখিয়ে তিনি বলেন, “পরিবেশিত খবরের সূত্র, স্ক্রিনে পরিবেশনকারী সংস্থার প্রতীক, তার অবস্থান— সব কিছুতেই নজর রাখতে হবে। ‘ডিপ ফেস টেকনোলজি’, ‘এআই (আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স) টেকনোলজি’, ‘ফেস সোয়াপিং টেকনোলজি’— এরকম হরেক প্রযুক্তি মিছে জিনিস ছড়িয়ে দিচ্ছে।”
প্রযুক্তির এই সব কেরামতির সঙ্গে যুঝতে কোমড় বেঁধে নেমেছে ওই প্রযুক্তিই। মানে কালো আমি, সাদা আমি। এ কথা জানিয়ে ব্রিটানি “গুগুল, টিনআই, ইয়ানডেক্স, বিং-এর মত নানা ‘রিভার্স ইমেজ’-এর উল্লেখ করেন। সেগুলোর তুলনামূলক কার্যকারিতার হদিশ দেওয়ার চেষ্টা করেন। আর ভিডিওর পাহারাদারির জন্য ‘গুগুলআর্থ’, ‘বোটোমিটার’, ‘ইনভিড’, ‘ডিপওয়েভ’— উল্লেখ করলেন এ সবেরও।
কর্মশালার শুরুতে কলকাতার আমেরিকান সেন্টারের ডেপুটি ডিরেক্টর ম্যাথু বিকোফ বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্ণ হল। এটা আমাদের গর্বের কথা। বাক স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা— এগুলোর সঙ্গে ভুয়ো খবরের সঙ্গে নিরন্তর লড়াইয়ে বিশ্বাস করি আমরা।”
মঞ্চে ছিলেন একটি সুপরিচিত ইংরেজি দৈনিকের স্কুল অফ প্রিন্ট জার্নালিজমের অন্যতম কর্তা, অভিজ্ঞ সাংবাদিক সুব্রত নাগচৌধুরী। কর্মশালায় শিক্ষার্থী ও অংশগ্রহণকারীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন ব্রিটানি।

