স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৮ জুলাই:
নদিয়ার হাঁসখালির সনাতনপুর আঁটির পাড়ায় এক ব্যাক্তির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য।
পরিবারের দাবি, প্রতিদিনের মতো গতকাল সন্ধ্যায় কলাতলা বাজারে কম্পিউটার শিখতে গিয়েছিল প্রশান্ত। প্রতিদিনই রাত ১১টায় বাড়ি ফেরে প্রশান্ত। ২৫ বছর বয়সী প্রশান্ত বিশ্বাস মাজদিয়া সুধীর রঞ্জন লাহিড়ী মহাবিদ্যালয়ের বিএ পাশ করে চাকরির জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিতে যেতেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড়ভাই সুকান্ত বিশ্বাস ফুলের চাষ করে। বড় ভাই সুকান্ত প্রতিদিন রাত ২ টো নাগাদ বাজারে ফুল বেচতে যান মোটরসাইকেল নিয়ে।
আজও ফুল বেচতে যাবার সময় মটর সাইকেল না পেয়ে ভাইয়ের ঘরে গিয়ে দেখে ভাই নেই। তখন খোঁজ খবর নিতে গিয়ে দেখতে পায় বাড়ির সামনে পুকুরের পাড়ে মটর সাইকেল পড়ে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি থেকে বাবা মাকে ডাকে। ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। তারা দেখেন পুকুরের মধ্যে পড়ে রয়েছে তার দেহ। সঙ্গে সঙ্গে তারা জল থেকে মৃতদেহ তুলে আনেন।

বাবা শ্রীকান্ত বিশ্বাসের দাবি, আমার ছেলেকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। এরপর হাঁসখালি থানায় খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে হাঁসখালি থানার ওসি সহ বিরাট পুলিশ বাহিনী পৌঁছায়। মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের সময় মোটরসাইকেলের নীচ থেকে একটি বড় সাইজের রক্তমাখা প্লাস্টিক পেপার পাওয়া যায়। যার ও ফলে পরিবারের আশঙ্কা আরও দৃঢ় হয়। এলাকাবাসীরাও ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

প্রতিবেশীদের দাবি, এই গ্রামে প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই মদ ও জুয়ার আসর বসে, কিন্তু প্রশাসন নীরব দর্শক। কোনও দিন পুলিশ আসে না এই গ্রামে। একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন এলাকাবাসীরা। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাবার চেষ্টা করলে গ্রামবাসীরা তাতে বাধা দেয়। তাদের বক্তব্য, আগে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হোক। এর কিছুক্ষণ বাদে প্রশাসনিক সূত্রে তাদের আশ্বস্ত করা হয়, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বিষয়টি। ঘটনায় এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

