আমাদের ভারত, কলকাতা, ৩০ জুলাই: শনিবার দুপুরে দক্ষিণ কলকাতায় হাজরায় বিজেপির চোর ধরো, জেল ভরো কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা দেখা দেয়।
এদিন নানা রকম শ্লোগান দিতে দিতে বিজেপির বেশ কিছু সমর্থক হাজরার মোড়ে রাজ্য সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকেন। ঘটনাস্থলে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন ছিল। তারা বিক্ষোভকারীদের ধরে ভ্যানে তোলার চেষ্টার সময় দুপক্ষে ধ্বস্তাধ্বস্তি হয়। এর পর সুকান্তবাবু ঘটনাস্থলে এলে পুলিশ তাঁকে আটক করে।
আজ দুপুরে হাজরার মোড়ে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি নিয়ে পোস্টার লগানোর কথা ছিল বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের। সেইমত বিজেপি কর্মী সমর্থকরা উপস্থিত হয়ে স্লোগান দিলে পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ায় ধস্তাধস্তি হয়। কয়েকজনকে পুলিশ আটক করে। কিন্তু বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে থাকেন। তাদের তাদের হাতে ছিল ‘চোর ধরো জেলে ভরো’ পোস্টার।

কিছুক্ষণ পর সেখানে আসেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। কিন্তু তিনি গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তাঁকে এগিয়ে যেতে বাধা দেয়। কার্যত তাঁকে ঘিরে ফেলে। সুকান্তবাবু সেখানেই চোর ধরো জেলে ভরো, পোস্টার বের করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। কিন্তু পুলিশ তাকে ঘিরে ধরায়, সুকান্তবাবু গাড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে পোস্টার নাড়াতে থাকেন। একজন পুলিশ অফিসার গাড়ির অন্যপাশ দিয়ে উঠে দ্রুততার সঙ্গে তার হাত থেকে সেই পোস্টার কেড়ে নেন। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপ থেকে সুকান্ত মজুমদারকে কার্যত ছিনিয়ে নেয় পুলিশ। এরপর তাঁকে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়।

সুকান্ত বাবু জানান, পুলিশ তাঁকে টানাহ্যাঁচড়া করায় তিনি যথেষ্ট আঘাত পেয়েছেন। তাঁর ঘাড়ের ডান দিকে চোট লেগেছে, যথেষ্ট যন্ত্রণা হচ্ছে। এছাড়া তার বা হাতে পুলিশ খামচে দিয়েছে, সেখানেও জ্বালা করছে। তিনি বলেন, সাধারণ একটা কর্মসূচি ছিল। পোস্টার লাগানোর কর্মসূচি। তাতেও পুলিশ এইভাবে গ্রেফতার করলো। আসলে পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। সুকান্তবাবুকে যখন লালবাজারে নিয়ে আসা হয়, তখনও তিনি স্লোগান দিতে দিতে গাড়ি থেকে নামেন। সেই সময় কয়েকজন বিজেপি নেতা কর্মী লালবাজারের সামনে বসে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। পুলিশ তাদেরও গ্রেফতার করে।

