নজিরবিহীন! অধীর চৌধুরী সহ ৩৩ জন সাংসদকে একসঙ্গে সাসপেন্ড করলেন স্পিকার

আমাদের ভারত, ১৮ ডিসেম্বর: সংসদে হট্টগোল করার কারণে লোকসভা থেকে এক সঙ্গে ৩৩ জন সাংসদকে শীতকালীন অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড করে দিলেন স্পিকার ওম বিড়লা। সংসদের রেকর্ডে এহেন ঘটনা এর আগে দেখা গেছে বলে মনে করা যাচ্ছে না। বাজপেয়ী কিংবা মনমোহন কারও জমানাতেই এমন নজির নেই বলেই জানা যাচ্ছে।

লোকসভায় রংবাজদের হানা কাণ্ডে উত্তাল হয়েছে সংসদের দুই কক্ষ। লোকসভার ৩৩ জন ছাড়াও রাজ্যসভাতেও ৩৪ জন সাংসদকে শীতকালীন অধিবেশনের থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

সাসপেন্ড হওয়া সাংসদের মধ্যে ৩ জনের বিরুদ্ধে সংসদের স্বাধীকার ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। কারণ তারা স্পিকারের পোডিয়ামে উঠে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ। লোকসভায় ঝাঁপ কাণ্ডে সংসদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গেছে বলে মনে করছেন বিরোধীরা। তাই এই ব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতির দাবি করে লোকসভায় স্লোগান তুলেছিলেন তারা। যার নেতৃত্বে ছিলেন লোকসভার কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। কংগ্রেস সাংসদদের মতো স্লোগান তুলেছিলেন তৃণমূল, ডিএমকে সাংসদরাও। এই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্পিকার, তিনি সাংসদদের সাসপেন্ড করে দেন। তাদের মধ্যে তৃণমূলের নয়জন সাংসদ রয়েছে।

এই ব্যাপারে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ প্যাটেল প্রস্তাব পেশ করেন তাতে সহমত পোষণ করেন স্পিকার। গত সপ্তাহে ১৪ জন বিরোধী সাংসদকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করেছেন স্পিকার। সবমিলিয়ে ৪৬ জন সাংসদকে এই অধিবেশনে সাসপেন্ড করা হলো যা সংসদের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে মনে করা হচ্ছে।

বিরোধীরা বলেছেন অতীতে বিজেপি যে কখনোই সংসদে হট্টগোল করেনি তা নয়। স্পেকট্রাম দুর্নীতির অভিযোগে একটানা সংসদের দুই অধিবেশনে হট্টগোল চালিয়ে গিয়েছিল বিজেপি। সেই সময় লোকসভার নেতা ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। বিরোধী দলনেতা ছিলেন সুষমা স্বরাজ। প্রণব ও মনমোহনের অনুরোধ সত্বেও সংসদে হই হট্টগোল করেছিলেন তারা।

তাই আজ সাংসদদের সাসপেন্ড করার ঘটনাকে বিরোধীরা তাদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা হিসাবেই দেখাতে চাইছেন। এ ব্যাপারে লোকসভায় কংগ্রেস নেতাও অধীর চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদের নিরাপত্তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চ্যানেলে গিয়ে বাইট দিচ্ছেন, অথচ সংসদে এসে কথা বলছেন না। কারণ সংসদে পাল্টা প্রশ্ন ওঠার ভয় পাচ্ছেন ওরা। আর সেই কারণে বিরোধীদের এখন কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে।

যদিও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেছেন, এই ঘটনায় রাজনীতি না করে ঘটনাটি গভীরে খতিয়ে দেখার দরকার। লোকসভার স্পিকার এই ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *