শিলিগুড়িতে বিজেপির সংকল্প যাত্রা করতে না দেওয়ায়, রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

আমাদের ভারত, শিলিগুড়ি, ১৮ আগস্ট: কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর উত্তরবঙ্গে ফিরেই রাজ্য সরকারকে একহাত নিলেন নিশীথ প্রামাণিক। মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে বিজেপির যুব সংকল্প যাত্রা করতে দেয়নি পুলিশ। সকালে এই যাত্রা করতে গেলেই কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়। জোর করে পুলিশের গাড়িতে উঠে যায় বিধায়ক শংকর ঘোষও। আজ বাগডোগরায় নেমেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য রাজ্য জুড়ে তৃণমূল সরকারের সন্ত্রাস চলছে। তাঁরা মিথ্যা মামলায় আমাদের কর্মীদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করছি।

    রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার যুব সংকল্প যাত্রার আয়োজন করেছিল বিজেপি। উপস্থিত ছিলেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। এই খবর পেয়েই সকাল থেকে বিজেপির দলীয় দফতরের সামনে বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে হাজির হয় পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। যারাই মিছিলে যোগ দিতে আসছিল তাদের সাথে সাথে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়। বেলা বাড়তেই হাজির হন বিধায়ক শংকর ঘোষ। জাতীয় পতাকা হাতে তিনি হাসমিচকে আসেন। তাকে অবশ্য পুলিশ গ্রেফতার করেনি। কিন্তু কর্মীদের গ্রেফতার করায় তিনি নিজেই পুলিশের গাড়িতে উঠে পড়েন। পরে সাংসদ রাজু বিস্তা গিয়ে শিলিগুড়ি থানা থেকে শংকর ঘোষকে নিয়ে আসেন। তিনি পুলিশের এহেন আচরণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেন।

এদিকে দুপুরে বিমানে বাগডোগরা আসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। তিনি এপ্রসঙ্গে বলেন, নির্বাচনের পর থেকে বাংলায় সন্ত্রাস চলছে। বিজেপি কর্মীদের ঘরছাড়া হতে হয়েছে। বিজেপিকে আটকাতে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। তাই শিলিগুড়িতেও সংকল্প যাত্রা করতে দেওয়া হয়নি। তবে আমরা মানুষের পাশে আছি। তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আমাদের লড়াই জারি থাকবেই।
  অন্যদিকে এদিন কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জন  বার্লাও ফিরেছেন। তিনিও এসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্যই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রী করেছেন। আমরাও প্রস্তুত উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন করতে। আর এই দেখেই দিদি ভয় পেয়েছে তাই আমাদের কোনও কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছেন না। তিনি নিজেও রাজ্যের মানুষের জন্য কাজ করছেন না। তাই নিয়ে আমাদের কর্মী সমর্থকরা আন্দোলন করলেই দমিয়ে দিতে চাইছেন।
   
ছবি: কর্মীদের সঙ্গে থানায় সাংসদ সুকান্ত মজুমদার।

অন্যদিকে, নিশীথ প্রামাণিকের সাথে দেখা করতে নারায়ণি সেনা আসলে তাদের রাস্তা থেকেই গ্রেফতার করে বাগডোগরা থানার পুলিশ। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা থানায় বিক্ষোভ দেখান। তারা ভাঙ্গচুর করে বলেও অভিযোগ। পরে তাদের ছাড়াতে থানায় যান সাংসদ সুকান্ত মজুমদার সহ স্থানীয় বিধায়ক আনন্দময় বর্মণ ও শংকর ঘোষ। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ৭৫ জন নারায়ণী সেনাকে ছাড়তে বাধ্য হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *