গাইঘাটার দুঃস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৫ আগস্ট: অসুস্থ বাবা। সংসার চালাতে টোটোর স্টিয়ারিং ধরেছে গাইঘাটার ক্লাস নাইনের গায়ত্রী। স্বপ্ন আকাশে উড়ান ভরার। কিন্তু আপাতত বাস্তবের রূক্ষ মাটিতে সংসারের হাল টানতে ধরতে হয়েছে টোটোর হাতল। বয়স মাত্র ১৫ বছর। ছোট্ট বয়সেই অভাবের সংসারে পাইলটের ভূমিকায় গায়ত্রী হালদার। গাইঘাটার ঢাকুরিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রীর দিন শুরু হয় খানিক অন্যভাবে। সাতসকালে ঘুম থেকে উঠেই টোটো নিয়ে বেরিয়ে পড়ে সে। ফিরে এসে স্কুল। তারপর পড়াশোনা মিটিয়ে বাড়ি ফিরে ফের একবার বেরিয়ে পড়া। চলছে এভাবেই। খবর পেয়ে গায়ত্রীর বাড়িতে ছুটে আসেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর।

স্থানীয় সূত্রের খবর, গায়ত্রীর বাবা অলোক হালদার চালাতেন টোটো। ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার জেরে শারীরিক সক্ষমতা হারান। স্ত্রী ও দুই মেয়ের সংসার নিয়ে কার্যত সমস্যার সাগরে পড়েন। কিন্তু সেই সময়ই কার্যত জেদ করে বাবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে তার টোটো নিয়েই বেরিয়ে পড়ে ছোট মেয়ে। তারপর থেকে চলছে সেভাবেই। মেয়ে সংসারের জন্য যে কাজ করছে তা নিয়ে বলতে গিয়ে গলা ধরে আসে বাবার। যা হোক করে কথা জুগিয়ে অলোক হালদার বলেন, বাড়ির জন্য করছে কাজ। তবে আমার খুব কষ্ট হয়।

সংসারের হাল টানতে স্কুলে সেভাবে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সুযোগ পায় না গায়ত্রী। যদিও তা নিয়ে খুব একটা আপশোস নেই। বলা ভাল, ভাবার সময় নেই। স্কুলের শিক্ষিকারাও ছোট মেয়ের লড়াইকে কুর্নিশ জানান।

গাইঘাটা ঢাকুরিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রত্না রায় বলেছেন, ওইটুকু মেয়ের লড়াই দেখে কষ্ট হয়। আশা রাখি কেউ বিষয়টা দেখবেন। যে বয়সে স্কুলে আর পাঁচজনের সঙ্গে পড়াশোনা, খেলায় মেতে থাকার বয়স সেই সময়ে এভাবে জীবনযুদ্ধ চালানো গায়ত্রীর লড়াই ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও। এদিন শান্তনু ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন। কিছু আর্থিক সহযোগিতা করলেন৷

শান্তনু ঠাকুর বলেন, গায়ত্রী বাবার যে শারীরিক সমস্যা আছে তার জন্য কল্যাণী এইমসে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে৷ গায়ত্রীর পড়াশোনোর ক্ষেত্রে সমস্ত রকম সহযোগিতা করা হবে৷ পাশাপাশি পরিবারের যে কোনো সমস্যা তারা জানতে পারলেই সহযোগিতা করবে৷ গায়ত্রী টোটো চালিয়ে পড়াশোনা করা নিয়ে রাজ্য সরকারের করা সমালোচনা করেন মন্ত্রী৷ তিনি বলেন, রাজ্য সরকার এবং তাদের দল রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত৷ এসব দিকে ওদের খেয়াল নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *