সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৯ নভেম্বর: বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি থানার নিধিরামপুরে মৃত বিজেপি কর্মীর বাড়িতে যান কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডাঃ সুভাষ সরকার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছাতনার বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায় ও শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি। আজ সকালে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডাঃ সুভাষ সরকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মৃতের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানাতে যান। প্রতিনিধি দলটি গ্রামে পৌঁছাতেই নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

বিজেপি কর্মী শুভদীপ মিশ্র ওরফে দীপুর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার থেকে উত্তাল ছিল ওই নিধিরামপুর গ্রাম। পুলিশের সাথে কথা বলার সময় পুলিশের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকদের সাথে তুমুল বচসায় জড়িয়ে পড়েন ছাতনার বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়। একসময় উত্তেজনা এতটাই চরমে ওঠে যে পুলিশের এক আধিকারিক ও বিধায়ক উভয়েই মারমুখী হয়ে ওঠেন। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও দুই বিধায়ক। পুলিশ তাদের প্রশ্নের জবাব ঠিকমত না দেওয়াতেই ছাতনার বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায় উত্তেজিত হয়ে পড়েন বলে জানাগেছে। পুলিশের অভিযোগ, ওই সময় ছাতনার বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায় উপস্থিত পুলিশের উচ্চ পদস্থ আধিকারিককে তুই তোকারি পর্যন্ত করেন। শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গতকাল বাঁকুড়া- রানীগঞ্জ ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক দীর্ঘক্ষণ অবরোধের কারণে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে পুলিশ মামলা রুজু করতে চলেছে। আর তারই বিরোধিতায় সরব হলেন বিধায়ক থেকে শুরু করে সাংসদ সকলেই। শুভদীপ ওরফে দীপু মিশ্র এক প্রতিবেশী গৃহবধূর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে বাড়ি ছাড়া ছিলেন। মঙ্গলবার বাড়ি ফেরেন তিনি। রাতে কখন বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তা তার বাড়ির লোক টের পাননি। সকালে বাড়ির কাছেই শিব মন্দির ও প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরের মাঝে একটি বট গাছের ডালে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, তার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। বাড়ির লোকের অভিযোগ, দীপুকে খুন করা হয়েছে। এই মর্মে দীপুর বাবা নন্দ মিশ্র অভিযুক্ত মহিলা, তার স্বামী ও দেওর এবং তারই ২ জন আত্মীয় মোট ৫ জনের নামে থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। মহিলা ও তার স্বামী এবং দেওরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি দু’জন পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কিন্তু মন্ত্রী ও বিধায়কদের দাবি, পুলিশ পলাতক বললেও তারা প্রভাবশালী তৃণমূলের লোক হওয়ায় পুলিশ গ্রেফতার করছে না। এই নিয়েই পুলিশ আধিকারিককের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়। সাংসদ তথা মন্ত্রী সুভাষ সরকার বলেন, সিবিআই তদন্তের দাবি জানাচ্ছি আমরা। তিনি বলেন, দীপুর খুনিদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সারা বাংলা উত্তাল হবে।

