“রাজ্যের সমবায় ধ্বংস করেছেন অশিক্ষিত মুখ্যমন্ত্রী”, বিদ্যাসাগর ব্যাঙ্কের সভায় এসে মমতাকে আক্রমণ শুভেন্দুর

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ৭ ডিসেম্বর: মাত্র ১৫ মিনিটের ঝটিকা সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বেনজির’ আক্রমণ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিদ্যাসাগর সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের অন্যতম চেয়ারম্যান শুভেন্দু অধিকারী।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২ টা নাগাদ বিদ্যাসাগর ব্যাঙ্কের ৬ নং বোর্ড মিটিংয়ে যোগ দিতে মেদিনীপুরে এসেছিলেন তিনি। ১০-১৫ মিনিট পরেই মিটিং থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বললেন, “আমি ব্যাঙ্কের পরিচালক, নিয়ন্ত্রক। তাই এসেছিলাম। মুখ্যমন্ত্রী ২০১৪ সালেও চেয়ারম্যান পদে আমাকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন। পারেননি। আমি বোর্ডের জয়ী সদস্য। শুভেন্দুকে সরানো যাবে না।” এরপর, আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়িয়ে তিনি বলেন, “রাজ্যের সমবায় ধ্বংস করেছেন অশিক্ষিত মুখ্যমন্ত্রী। উনি সমবায় সম্পর্কে কিছু জানেন না।”

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ প্রায় দু’বছর পর মেদিনীপুর সেন্ট্রাল কো অপারেটিভ ব্যাঙ্কের বোর্ড মিটিংয়ে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। সভা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বেনজির’ আক্রমণ করে যান। এ নিয়ে ইতিমধ্যে জেলার রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীকে পাল্টা আক্রমণ করতে ছাড়েননি ব্যাঙ্কের বর্তমান চেয়ারম্যান প্রদীপ পাত্র এবং জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজয় হাজরা। সুজয় হাজরা জানিয়েছেন, “মুখ্যমন্ত্রীর দয়াতেই উনি চেয়ারম্যান হয়েছিলেন।”

প্রসঙ্গত, গত ১৬ সেপ্টেম্বর শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে বিদ্যাসাগর সেন্ট্রাল কো অপারেটিভ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। গত, ১৬ নভেম্বর প্রদীপ পাত্র দায়িত্ব নেন ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান হিসেবে। ব্যাঙ্কের বর্তমান ১৬ জন চেয়ারম্যানের মধ্যে ১৫ জনই শুভেন্দু’র বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। তবে, একজন চেয়ারম্যান হিসেবে এখনো আছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিদ্যাসাগর সেন্ট্রাল কো অপারেটিভ ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান প্রদীপ পাত্রের দাবি, “গত পাঁচটি বোর্ড অফ ডিরেক্টরের মিটিংয়ে যোগ দেননি শুভেন্দু অধিকারী। ফলে শনিবারের মিটিংয়ে যোগ না দিলে তাঁর ডিরেক্টরসিপ নিয়ে প্রশ্ন উঠতো। নিজের ডিরেক্টরশিপ বাঁচানোর জন্যই শুভেন্দু অধিকারী এদিন ব্যাঙ্কে আসেন”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *